জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে আদর্শিক সম্পর্ক বজায় রেখে ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন এক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছে। ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স’ নামের এই সংগঠনের ১০২ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই নতুন সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশের সুপরিচিত ক্রীড়া সংগঠক নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং সদস্যসচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির সাবেক প্রধান এম নাজমুল ইসলাম। এছাড়া কমিটির এক নম্বর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতা এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। অনুষ্ঠানে সদস্যসচিব এম নাজমুল ইসলাম আংশিক কমিটির ঘোষণা দেন এবং পরবর্তীতে সকল সদস্যের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ স্পোর্টস অ্যালায়েন্সকে একটি ‘স্বাধীন সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁরা স্পষ্টভাবে জানান যে, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের উইং বা শাখা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে না।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ক মূলত ‘আদর্শিক ও নীতিগত’। একজন সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করেন যে, স্পোর্টস অ্যালায়েন্সকে এনসিপির অঙ্গসংগঠন বলতে সমস্যা কোথায়, তখন নাহিদ ইসলাম উত্তর দেন, “এনসিপির অঙ্গসংগঠন আর সহযোগী, সমমনা ও ভ্রাতৃত্ব সংগঠনের ধারণাগুলো আলাদা। নির্বাচনী আইন মেনে আমরা রাজনৈতিক দল পরিচালনা করি। স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের সঙ্গে অবশ্যই আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের আদর্শিক ও নীতিগত জায়গা রয়েছে। সে জন্যই আমরা এই আয়োজনের সঙ্গে আছি, আমরা এখানে এসেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এখানে রাখঢাকের কিছু নেই। আমরা সহযোগিতা করতে চাই। এটা আমাদের অধীন কোনো সংগঠন নয়, তারা স্বাধীনভাবেই কাজ করবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের ভালো কাজের সঙ্গে আমরা থাকব।”
এর আগে তাঁর বক্তব্যে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “যাঁরা ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের উদ্যোগটা নিয়েছেন, তাঁদের প্রথম থেকেই ধারণা ছিল এটা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের উইং বা শাখা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। তারা একটা স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স ক্রীড়ার নীতি নিয়ে কাজ করবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। তিনি সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সকে অনুরোধ করছি, আপনারা কখনো লেজুড়বৃত্তিক সংগঠন হবেন না।”
সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, দায়িত্বশীল এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগ। আগামী ছয় মাসের জন্য এই কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদিত হয়েছে। কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে পাঁচজনকে মনোনীত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, তারেক এ আদেল, জহিরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন ও আহনাফ সাঈদ খান।
কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আরমানুল ইসলাম। এছাড়া কমিটিতে ৫ জন যুগ্ম আহ্বায়ক, ৭ জন যুগ্ম সদস্যসচিব, ৩৬ জন সংগঠক এবং ৪৭ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আহ্বায়ক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। পাশাপাশি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক এ আদেল এবং ক্রিকেট কোচ ইমরান হোসাইনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য প্রদান করেন।