জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ক্রীড়া অঙ্গসংগঠন হিসেবে আজ সোমবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স। এই নতুন সংগঠনটির নেতৃত্বে আসতে যাচ্ছেন দেশের পরিচিত ক্রীড়া সংগঠক নাজমুল আবেদীন ফাহিম, যিনি আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির সাবেক প্রধান এম নাজমুল ইসলাম। উল্লেখ্য, এম নাজমুল ইসলাম তাঁর দায়িত্ব পালনকালে গত জানুয়ারিতে ক্রিকেটারদের নিয়ে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।
আজ সোমবার বিকেল চারটায় রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের এই আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া উপস্থিত থাকবেন। এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের দুজন সদস্য মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই অনুষ্ঠানেই দুই নাজমুল আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই সংগঠনে যোগ দেবেন।
নাজমুল আবেদীন ফাহিমের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৮৮ সালে বিকেএসপিতে কোচিংয়ের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তিনি বিসিবিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি প্রথমে হাই পারফরম্যান্স দলের জ্যেষ্ঠ কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রশিক্ষক এবং বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবেও তাঁর অবদান রয়েছে। ২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর কোচিংয়ের সময়েই ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের শিরোপা জয় করে নারী দল, পাশাপাশি ২০১৯ সালের আইসিসি নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও তারা সফলতা অর্জন করেছিল। তবে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে নাজমুল আবেদীন বিসিবি থেকে পদত্যাগ করেন।
অন্যদিকে, এম নাজমুল ইসলাম গত জানুয়ারিতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে এমন কিছু মন্তব্য করেন যা ক্রীড়াঙ্গনে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না—সেই প্রসঙ্গে গত ১৫ জানুয়ারি বিসিবির অর্থ বিভাগের প্রধান নাজমুল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমরা যে ওদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত আমরা একটাও বৈশ্বিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি? কোনো একটা জায়গায় আমরা কতটুকু কী করতে পারছি?”
এই বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি আরও কিছু অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করেন, যার ফলে খোদ বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিসিবি তাঁকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছিল। পরবর্তীতে ক্রিকেটারদের তীব্র দাবির মুখে বিসিবি তাৎক্ষণিকভাবে নাজমুলকে অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা দুই দিন নানা নাটকীয়তা চলে। শেষ পর্যন্ত বিসিবি ক্রিকেটারদের প্রতিশ্রুতি দেয় যে, নাজমুল তাঁর বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করবেন। এই আশ্বাসের পর ক্রিকেটাররা পুনরায় খেলায় ফিরলেও বিসিবি তাদের কথা রাখেনি এবং নাজমুলকে আবারও অর্থ কমিটির প্রধানের পদে বহাল করা হয়।