বরগুনার তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং জেলা পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল মন্তব্য করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৯ অক্টোবর বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং সদস্য সচিব এসএম হুমায়ুন হাসান শাহীন স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে তার সদস্য পদ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই চিঠির কথা জানাজানি হলে তালতলী উপজেলা বিএনপির একটি অংশ, তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং মোস্তাকের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ আগস্ট। বিএনপি চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক একটি বক্তব্য রাখেন। সেই বক্তব্যে তিনি বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ লালন-পালন করার অভিযোগ এনে কটূক্তিমূলক কথা বলেন।
মোস্তাকের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তালতলী উপজেলা বিএনপির ভেতরে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা। একদিকে মোস্তাকের সমর্থনে অবস্থান নেন উপজেলা বিএনপি, যুবদল, শ্রমিকদল ও ছাত্রদলের একটি অংশ। অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম মোল্লার পক্ষে অবস্থান নেন তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শহীদুল হক এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহবুবুল আলম মামুনের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অপর একটি অংশ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বরগুনা জেলা বিএনপি প্রথমে মোস্তাককে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গত ২৯ অক্টোবর বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা ও সদস্য সচিব এসএম হুমায়ুন হাসান শাহীন স্বাক্ষরিত চিঠিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মিয়া মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত করা হয়।
এই বিষয়ে তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ও সদস্য সচিব এস এম হুমায়ুন হাসান শাহীন তালতলীতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করে আসছে। এর প্রতিবাদ করায় আমাকে অন্যায়ভাবে নোটিশ করেছিল। ওই নোটিশের জবাব দিয়েছি। তারপরও আমাকে দলীয় প্রাথমিক পদ স্থগিত করেছেন।”
তিনি আরও জানান, “তাদের দেওয়া চিঠি পাইনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠি দেখেছি।”
অন্যদিকে, বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এসএম হুমায়ুন হাসান শাহীন মুক্তকণ্ঠকে জানান, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নেতাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাককে কারণ দর্শানের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি তার জবাব দেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, এরপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং ওই কমিটির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তার দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।