বরগুনার তালতলী উপজেলায় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকে আশপাশের এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কয়লার ধোঁয়া এবং ছাইয়ের কারণে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, যার ফলে চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। তবে এই রোগের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমের কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বরগুনার সিভিল সার্জন।

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫ জন রোগী। ২০২৬ সালে এই সংখ্যাটি নাটকীয়ভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ জনে। একই সময়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পানিবাহিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২৭৯ জন থেকে বেড়ে ৬৭২ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে চর্মরোগে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন নতুনপাড়া এলাকায় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি জরিপ পরিচালনা করে। ওই জরিপে দেখা গেছে, ২১ জন নারীর মধ্যে ১৭ জনই চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

বরগুনার নিশানবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা সালেহা বেগম বর্তমানে তীব্র চর্মরোগে আক্রান্ত। তার পুরো শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ, যার ফলে অসহনীয় চুলকানি ও যন্ত্রণায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সালেহা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “এলাকায় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর থেকেই তার শরীরে অস্বাভাবিকভাবে চুলকানি শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা গুরুতর চর্মরোগে রূপ নেয়।” আর্থিক অনটনের কারণে তিনি নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলেও জানান।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সালেহা বেগমই নন, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া এলাকার আরও অনেক বাসিন্দা বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগে ভুগছেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে এই এলাকায় ৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় চর্মরোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, তাদের শরীরে চুলকানি, ক্ষত এবং ফুসকুড়িসহ নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।

‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়ক আরিফুর রহমান বলেন, “তালতলীর কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রমের কারণে পরিবেশে নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আশপাশের বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।”

এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ জানান, “নিশানবাড়িয়া এলাকায় চর্মরোগের প্রকোপ বাড়লেও এর সঙ্গে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে গবেষণা প্রয়োজন।”