বরগুনার তালতলী উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষের তালা ভেঙে নারীদের নিয়ে নাচ-গানের আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে। উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ৩০ অক্টোবর রাতে এই ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। তবে রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই নাচের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের ভেতরে দুজন নারী গানের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করছেন। তাদের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত কিছু পুরুষও নাচে অংশ নিচ্ছিলেন। ভিডিওতে তাদের অশালীন অঙ্গভঙ্গিতে নাচতে দেখা গেছে। এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষ হওয়ার পর আয়োজক কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ের পাশে একটি পিকনিকের আয়োজন করেন। রাতে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তারা বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের তালা ভেঙে সেখানে নারীদের নিয়ে নাচ-গানের আসর বসানো হয় বলে অভিযোগ।
ফুটবল আয়োজক কমিটির সদস্য এবং ভিডিওতে নারীদের সঙ্গে নাচতে দেখা যাওয়া মোয়াজ্জেম তালুকদার আলাল এই বিষয়ে বলেন, “ফুটবল খেলা শেষে আনন্দ-ফুর্তির জন্য পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। এলাকার অনেকেই ছিলেন, নারীরাও ছিলেন। এ ধরনের নাচ-গান অনেক জায়গায় হয়। এটা অসামাজিক নয়।”
চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিনয় কুমার ঢালি জানান, শুক্রবার স্কুল বন্ধ থাকায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানতেন না। পরবর্তীতে একজনের কাছ থেকে শুনে তিনি স্কুলের দপ্তরির মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছেন।
তালতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষককে ফোন দিলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না বলে জানিয়েছেন। তবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কক্ষের তালা ভেঙে কারা এ ধরনের আয়োজন করেছেন, তা তদন্ত করা হবে। ঘটনা সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”