যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুরে আড়াই লাখ ভোল্টের একটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ারের চূড়ায় উঠে বসে থাকা যুবক তুহিন হোসেন মূলত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার এই মানসিক অসুস্থতার কারণেই তিনি মাঝেমধ্যে এমন অস্বাভাবিক আচরণ করে থাকেন। সামাজিক মাধ্যমে বা বিভিন্ন সূত্রে যে খবর ছড়িয়েছে যে, বিয়ের দাবিতে তিনি বিদ্যুতের টাওয়ারে উঠেছিলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সেই তথ্যের সত্যতা অস্বীকার করেছেন।

নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিম হোসেন মিন্টু মুক্তকণ্ঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নরেন্দ্রপুর গ্রামের পশ্চিম মাঠপাড়ার বিল এলাকায় অবস্থিত আড়াই লাখ ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি টাওয়ারের চূড়ায় উঠে বসেন তুহিন। স্থানীয় কৃষকরা তাকে টাওয়ারের ওপর দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে টাওয়ার থেকে নিচে নামানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে বিষয়টি জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় যখন প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন, তখন তুহিন নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন।

প্যানেল চেয়ারম্যান আজিম হোসেন মিন্টু আরও জানান, তুহিন নরেন্দ্রপুর গ্রামের মাঠপাড়ার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর মা, তিন বোন ও ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ এবং সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে মণিরামপুরের গাবখালীতে কোনো একটি কারণে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, সেই ঘটনার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তিনি মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এরপর থেকে তুহিন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গার বিদ্যুতের টাওয়ারে উঠে পড়ার প্রবণতা দেখান। গত বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালেও তিনি পতাকা নিয়ে একটি বিদ্যুৎ টাওয়ারে উঠেছিলেন। এর আগে নড়াইলেও একইভাবে বিদ্যুৎ টাওয়ারে উঠে বসেছিলেন তিনি।

আজিম হোসেন মিন্টু বলেন, “তুহিনের পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। তার উপার্জনের ওপরই পরিবারের সদস্যরা নির্ভরশীল। যথাযথ চিকিৎসা ও সহযোগিতা পেলে তুহিন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে তুহিনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।”