শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে আগ্রহী গুগল। তবে শিশুদের শিক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এই প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই সিনেটর। এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের কাছে নয়টি নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তাঁরা। সিনেটররা গুগলকে আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।

সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এবং জশ হাওলি সম্প্রতি সুন্দর পিচাইয়ের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। উক্ত চিঠিতে তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুগলের এআই প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং শিশুদের মানসিক বিকাশ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন।

সুন্দর পিচাইয়ের কাছে ৯ প্রশ্ন-

চিঠিতে গুগলের কাছে যে নয়টি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—

১. “শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর জেমিনাই, এআই ওভারভিউ, এআই মোডসহ গুগলের অন্যান্য এআই পণ্যের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের গবেষণা করেছে? এসব গবেষণার ফলাফল কী?”

২. “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসে গুগল কেন এআই সুবিধাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু রাখছে? কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব সুবিধা বন্ধ করার সুযোগও কেন রাখা হয়নি?”

৩. “শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এআইয়ের নির্ভরশীলতার বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক কিংবা অভিভাবকেরা গুগলের কাছে কোনো উদ্বেগ জানিয়েছেন কি না? জানিয়ে থাকলে, সেসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পদক্ষেপ কী?”

৪. “গুগলের এআই পণ্যের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এমন উদ্বেগ জানানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কী ধরনের সহায়তা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি?”

৫. “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে গুগল কী কী প্রচারমূলক কর্মসূচি বা উদ্যোগ নিয়েছে? এসব কর্মসূচিতে কত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে?”

৬. “গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসক ও শিক্ষকদের জন্য কী ধরনের নির্দেশনা বা সহায়ক উপকরণ দেওয়া হয়েছে? বিশেষ করে এআইয়ের যথাযথ ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা রয়েছে?”

৭. “গুগলের শ্রেণিকক্ষভিত্তিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে কোনো শিশু ক্ষতিকর আচরণে উৎসাহিত হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন সিনেটররা। এ ছাড়া আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতি করার প্রবণতার লক্ষণ শনাক্ত করতে এআই ব্যর্থ হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন সিনেটররা।”

৮. “গুগলের গবেষকদের প্রকাশিত ‘দ্য এথিকস অব অ্যাডভান্সড এআই অ্যাসিস্ট্যান্টস’শীর্ষক গবেষণাপত্রের ফলাফলের পর শিশুদের জন্য এআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে প্রতিষ্ঠানটি কী পদক্ষেপ নিয়েছে?”

৯. “শিশুদের মধ্যে এআই চ্যাটবটের প্রতি আবেগগত নির্ভরশীলতা এবং ভুল বিশ্বাসকে আরও জোরালো করার প্রবণতা ঠেকাতে গুগল কী ব্যবস্থা নিয়েছে?”