বরগুনার আমতলী উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে রোপণ করা শতাধিক ফলদ গাছ কেটে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী পৌর শাখার সভাপতি ও দলীয় মেয়র মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর দাবি, জমি দখলের অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কামরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। গাছ রোপণকারী মো. আব্দুর রশিদ খাঁন এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে আমতলী পৌর শহরের পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় এই ঘটনাটি সংঘটিত হয় বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, আমতলী পৌর শহরের ৪৩/১ পোল্ডারের পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন প্রায় ২ শতাংশ জমি দীর্ঘ সময় ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন মো. আব্দুর রশিদ খাঁন। প্রায় ২৬ বছর আগে, ২০০০ সালে তিনি ওই জমিতে আম, জাম ও কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক ফলদ গাছ রোপণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময়ে গাছগুলো বড় হয়ে ফল দিতে শুরু করে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, সোমবার সকালে ওই জমির সবকটি গাছ কেটে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুর রশিদ খাঁন বলেন, “২০০০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আমার দখলীয় ২ শতাংশ জমিতে আম, জাম ও কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক ফলদ গাছ রোপণ করেছি। জমিটি জোরপূর্বক দখল করতে ইসলামী আন্দোলন নেতা মাওলানা মো. কামরুজ্জামান সব গাছ কেটে ফেলেছেন। দলের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের উদ্দেশ্যে তিনি এ কাজ করেছেন। এ ঘটনায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে, এই গুরুতর অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী পৌর শাখার সভাপতি ও দলীয় মেয়র মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান। তিনি মুক্তকণ্ঠকে জানান, গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছেন, গাছ কাটার বিষয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।