বরগুনার আমতলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাওড়া নদী এবং এর শাখা নদীগুলোর প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা গত তিন দশক ধরে ঘন কচুরিপানায় ছেয়ে আছে। পচা কচুরিপানার তীব্র দুর্গন্ধে নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার পাশাপাশি চরম হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে উপকূলীয় এলাকার মানুষকে মুক্তি দিতে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে মাত্র তিন কিলোমিটার এলাকা পরিষ্কার করার পর গত এক মাস ধরে এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে ‘সুবন্দী প্রকল্প’ নামে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয় এবং চলতি বছরের ৩১ আগস্ট থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়। মোট ৩০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১৫ কিলোমিটার পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্মী এলাকা থেকে বলাইবুনিয়া গোড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার কচুরিপানা অপসারণ করার পর কাজ হঠাৎ থেমে যায়। এরপর থেকে প্রায় এক মাস ধরে নদী পরিষ্কারের কোনো কার্যক্রম আর চালানো হচ্ছে না।

প্রকল্পের দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, এক্সকাভেটর বা ভেকু মেশিন এবং শ্রমিকের সহায়তায় কচুরিপানার গোড়াসহ অপসারণ করার কথা বলা হয়েছে, যাতে দ্রুত পুনরায় কচুরিপানা জন্মাতে না পারে। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর ঠিকাদার বশির উদ্দিন যন্ত্রের সাহায্যে কচুরিপানা কাটার কাজ শুরু করলে দরপত্রের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান ঠিকাদারকে নোটিশ প্রদান করেন এবং এরপরই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে নদীটি কচুরিপানায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকলেও এর কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। কচুরিপানা পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “দরপত্র অনুযায়ী নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হবে। মেশিন দিয়ে কচুরিপানা অপসারণের কোনো সুযোগ নেই।”

অন্যদিকে, বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান জানান, “সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতেই আমরা প্রকল্প নিয়েছি। সরকারি সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হবে। জনগণের দাবি, কচুরিপানা এমনভাবে অপসারণ করতে হবে, যাতে তা পুনরায় জন্মাতে না পারে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করার চেষ্টা করছি।”