জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ নাজমুল হক তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

যোগদানকারীদের মধ্যে আছেন উপজেলার বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক সোনাহার আলী, মেরুচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা ও বিএনপি নেতা সালামত উল্লাহ, বগারচর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা হামিদুর রহমান ও মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আজাবুল ইসলাম। বাকিদের দলীয় পরিচয় ছিল না। তাঁরা সবাই বিএনপির কর্মী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামী কার্যালয়ে এ যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ নাজমুল হক, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আদেল ইবনে আউয়াল, উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মোসাদ্দেকুর রহমান ও পৌর জামায়াতের আমির আবদুল মতিনসহ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মুহাম্মদ নাজমুল হক সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

সদ্য জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়া মজিবুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এই রাজনীতির কারণে ফ্যাসিস্ট আমলে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। আর ৫ আগস্টের পর আমাদের মতো ত্যাগী নেতাদের স্থান এখন বিএনপিতে নড়বড়ে। যাঁরা বিগত ১৫ বছর আমাদের জুলুম, নির্যাতন ও হয়রানি করছেন, একদিন ঠিকমতো বাড়িতে থাকতে দেননি, আজ তাঁরা বিএনপির নির্বাচনী সভার প্রথম সারিতে বসে হাততালি দেন। এটা দেখে, অনেক কষ্ট লেগেছে। তখনই চিন্তা করছি। আর এই দলে থাকব না। আমার নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মী জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।’

বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘যোগদানের বিষয়টি শুনেছি। তবে তাঁরা বিএনপির উল্লেখযোগ্য কেউ না। তাঁরা দলে সক্রিয় ছিলেন না। তাঁদের চলে যাওয়াতে নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।’