কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক আবাসিক হাফেজিয়া মাদ্রাসার দুই শিশুশিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী দুই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই শিক্ষকের নাম মো. কবির হোসেন। গতকাল রোববার উপজেলার উক্ত হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে তাঁকে পুলিশ আটক করে। কবির হোসেনের স্থায়ী ঠিকানা জেলার বরুড়া উপজেলায়। আজ সোমবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
দুই শিশুর বিবরণ অনুযায়ী তাদের স্বজনরা জানান, প্রায় এক মাস আগে ওই মাদ্রাসায় আবাসিক শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন কবির হোসেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে অধ্যয়নরত ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই আবাসিক ছাত্রকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শিশুদের কথা বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং বিভিন্ন প্রলোভন প্রদর্শনের মাধ্যমে বেশ কয়েক দিন ধরে দুই শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। লোকলজ্জার ভয় এবং আতঙ্কে শিশুরা প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি। তবে গত দুই-তিন দিনে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে তারা পরিবারের সদস্যদের কাছে সব কথা খুলে বলে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবার, অন্যান্য অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এর প্রতিবাদে গতকাল রোববার বিকেলে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁরা মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে চৌদ্দগ্রাম থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগী দুই শিশুর বাবা প্রবাসী হওয়ায় একজনের চাচা এবং অন্যজনের দাদা বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতেই ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন আজ সোমবার দুপুরে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি মামলা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।”