ক্রিকেটের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ফর্ম হারানো কোনো নতুন বিষয় নয়। বিশ্বের বড় বড় ব্যাটসম্যানদের ক্যারিয়ারেও এমন সময় আসে যখন তারা রান খুঁজে পান না। তবে রানখরা পরিস্থিতি যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন তা কেবল স্কোরকার্ডের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা খেলোয়াড়ের মানসিকতায় প্রভাব ফেলে এবং আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরায়। বর্তমান সময়ে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজমের দশা ঠিক তেমনই।

ঘরের মাঠে সম্প্রতি শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজটি অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। পাঁচ ম্যাচে মাত্র ১১৮ রান করেছেন তিনি, যেখানে তাঁর গড় ছিল ২৩.৬০ এবং স্ট্রাইক রেট ৭৪.২১। সিরিজের সর্বোচ্চ রান ৪৫টি, যা তিনি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রাথমিক পর্বের প্রথম ম্যাচে সংগ্রহ করেছিলেন। পুরো সিরিজে একটি ফিফটিও করতে পারেননি তিনি। এমনকি ফাইনাল ম্যাচে রানের খাতায় নাম লেখাতেও ব্যর্থ হন বাবর। অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে চতুর্থ স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন তিনি।

ব্যক্তিগত ব্যর্থতা সত্ত্বেও পাকিস্তান দল ফাইনাল জিতেছে। ফাখর জামানের সেঞ্চুরির পাশাপাশি সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাসের হাফ সেঞ্চুরির সৌজন্যে ৩২৬ রানের লক্ষ্য ৩ উইকেটেই পেরিয়ে যায় তারা। তবে দলের শিরোপা জয়ের আনন্দের মাঝেও বাবরের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে কাটেনি দুশ্চিন্তা।

এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই বাবর আজমকে নিয়ে এক ভিন্নধর্মী পরামর্শ দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ। তাঁর মতে, বাবরকে এই মুহূর্তে ঘরোয়া ক্রিকেটে না পাঠিয়ে ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্রিকেট একাডেমিতে বিশেষায়িত ব্যাটিং কোচিং করানো উচিত।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের মতামত ব্যক্ত করে ইউসুফ লিখেছেন, ‘আমার মনে হয় না, বাবর আজমের টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো বিশেষায়িত কোচিংয়ের মাধ্যমে ঠিক না করা পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা উচিত। ঘরোয়া ক্রিকেটে সংগ্রাম করলে তার আত্মবিশ্বাস ও ক্যারিয়ার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

কেবল পরামর্শ দিয়েই ক্ষান্ত হননি ইউসুফ, তিনি নির্দিষ্ট গন্তব্যের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘তাকে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার কোনো একাডেমিতে পাঠান। সে এখনো পাকিস্তানের সেরা খেলোয়াড়। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সামান্য চেষ্টা পেলে সে আবার নিজের সেরা অবস্থায় ফিরতে পারবে।’

ইউসুফের এই বক্তব্যের পেছনে একটি পুরোনো আক্ষেপও কাজ করছে। সেই আক্ষেপ থেকেই তিনি জোর দিয়ে লিখেছেন, ‘চার বছর আগে আমি একই কথা বলেছিলাম, কেউ শোনেনি। দয়া করে এবার শুনুন।’

তবে ইউসুফের এই পরামর্শের বিপরীতে বাবর ইতিমধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে কায়েদ-ই-আজম ট্রফির জন্য লাহোর হোয়াইটস দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে তাঁর প্রতিপক্ষ হবে শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন এফএটিএ দল।

এর পাশাপাশি ৯ নভেম্বর থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। জাতীয় দলের এই ব্যস্ত সূচির আগে বাবরের ব্যাটিংয়ে ছন্দ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় ১৭ হাজার রান করা মোহাম্মদ ইউসুফ খুব ভালো করেই জানেন একজন ব্যাটসম্যানের জন্য টেকনিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বাবরের সামর্থ্য নিয়ে তাঁর কোনো সন্দেহ নেই। বরং সঠিক পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা পেলে বাবর আবারও তাঁর সেরা ফর্মে ফিরতে পারবেন, এই বিশ্বাসই পোষণ করেন তিনি।

এখন প্রশ্ন remains, বাবরের জন্য কোন পথটি অধিকতর শ্রেয়? ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিযোগিতায় লড়াই করে নিজেকে প্রমাণ করা, নাকি সাময়িকভাবে বিরতি নিয়ে টেকনিক্যাল ভুলগুলো শুধরে নেওয়া?