নয়টি কুমড়া, তিন কেজি কাঁচা মরিচ, কিছু পেঁয়াজ, রসুন, আদা আর সামান্য মসুর ডাল। ৯ অক্টোবর দুপুরে পটিয়া সরকারি কলেজের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত পুরোনো থানার হাটে এসব পণ্য নিয়ে বসেছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। তবে অবাক করা বিষয় হলো, হাটের ওই নির্দিষ্ট অংশে তিনি ছাড়া আর কোনো বিক্রেতা নেই।
প্রতিদিন দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে বের হন ইউসুফ। স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে তিনি অল্প কিছু পণ্য সংগ্রহ করেন এবং হাটের আশপাশের বাসিন্দারাই হয়ে ওঠেন তাঁর নিয়মিত ক্রেতা। দিনে পাঁচ-ছয় হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়ে গেলে তিনি দোকান গুটিয়ে নেন। পণ্য কেনার খরচ বাদ দিলে দিনশেষে তাঁর হাতে থাকে প্রায় হাজারখানেক টাকা। এছাড়া হাটে বসার জন্য তাঁকে আলাদা করে কোনো অর্থ প্রদান করতে হয় না।
৭০ বছর বয়সী ইউসুফ বর্তমানে অসুস্থ এবং তাঁর হাঁটাচলা করতে বেশ কষ্ট হয়। তাঁর দুই ছেলে চাকরি করছেন এবং মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন। পরিবারের এই স্বচ্ছলতা সত্ত্বেও তিনি নিজের ব্যবসা ধরে রেখেছেন। প্রায় এক দশক ধরে এই হাটে ব্যবসা করছেন তিনি। আয় খুব সামান্য হলেও দোকান ছাড়েননি ইউসুফ। দীর্ঘদিনের অভ্যাস এবং বসার জন্য বাড়তি কোনো খরচ না থাকা—এই দুটি কারণই তাঁকে ব্যবসার প্রতি আগ্রহী করে রেখেছে।
যে হাটে এখন কেবল ইউসুফ একাই বসে থাকেন, হাট শুরুর শুরুর দিকে সেখানে অর্ধশতাধিক বিক্রেতা পণ্য নিয়ে বসতেন। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এবং ইউসুফের কাছ থেকে জানা গেছে যে, সময়ের সাথে সাথে বিক্রেতার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে করোনা মহামারির পর থেকে তিনিই একমাত্র বিক্রেতা হিসেবে এখানে টিকে আছেন। পুরোনো থানার হাটটি যে বিলীন হওয়ার পথে, তার পেছনে রয়েছে বিক্রেতাদের ঠিকানা বদলের এক দীর্ঘ ইতিহাস।
১৯৮৫ সালে এই হাটটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এর এক অংশ পটিয়া সরকারি কলেজের দক্ষিণ দিকে আনোয়ারা সড়কের পাশে থেকে যায়, যা 'পুরোনো থানার হাট' নামে পরিচিত হয়। আর বড় অংশটি স্থানান্তরিত হয়ে যায় রেলস্টেশনের পাশে, যা বর্তমানে 'নতুন থানার হাট' নামে পরিচিত এবং ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে অত্যন্ত জমজমাট।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা নুরুচ্ছফা মিয়া বলেন, “রেলস্টেশনের পাশের হাটে পণ্য বেশি, বিক্রেতা বেশি, জায়গাও বড়। ক্রেতারা সেখানেই যান।” ইউসুফের ভাষ্যও ঠিক তেমনটিই—নতুন হাটটি বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো হাটে বিক্রেতার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। একসময় যেখানে কয়েক ডজন মানুষ পণ্য নিয়ে বসতেন, এখন সেখানে কেবল তিনি একাই বসে থাকেন।