নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের কষ্ট লাঘবে নির্মাণ করা হয়েছে একটি কালভার্ট। প্রায় ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনাটির কাজ শেষ হয়েছে দেড় মাস আগে। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কালভার্টের দুই পাশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় মানুষ এখনো এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

পূর্ব ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থেই এই কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের জন্য মাটি ফেলার বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় কাজ আটকে আছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার কারণেই সড়ক নির্মাণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় সময়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে টুনিরহাট আরঅ্যান্ডএইচ–কলোনির হাট জিসি সড়কে বক্স কালভার্ট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এই প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৬ লাখ ৫২ হাজার ৭১৩ টাকা। পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৭ টাকা। এন অ্যান্ড সন্স নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এই কাজটি বাস্তবায়ন করেছে।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর তারা দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের স্বপ্ন দেখেছিলেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেলে এই কালভার্টটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

পশ্চিম ছাতনাইয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “কালভার্ট নির্মাণ হলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় এটি দিয়ে চলাচল করতে পারছি না। বৃষ্টির দিনে বেশি কষ্ট হয়। বাইপাস সড়ক পানিতে ডুবে যায়। আর কালভার্টের দুই পাশে গর্ত থাকায় হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে হয়।”

স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, “কালভার্টটি মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় সেটি কোনো কাজে আসছে না। দ্রুত সড়ক নির্মাণ করে কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করা দরকার।” স্থানীয় কৃষক হাসমত আলী বলেন, “এত টাকা খরচ করে কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও তারা সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না। অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম জানান, কালভার্ট নির্মাণের মূল কাজ শেষ হয়েছে। তবে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চলছে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, “কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে, তবে প্রকল্প এখনও অনুমোদন হয়নি। এ কারণে ঠিকাদার এখনও বিল করতে পারেননি। বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার যে মাটি ফেলেছেন, স্থানীয় লোকজন তা কাটতে দিচ্ছেন না। এ সড়কের মাটি অ্যাপ্রোচ সড়কে ফেলা হবে। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আশা করি, বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।”

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের মাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।”