দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক, চারদিকে কেবল বিস্তীর্ণ ফাঁকা মাঠ। আর সেই মাঠের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি সেতু। পাবনার সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের রামাকান্তপুর গ্রামে কৃষকদের ফসল আনা-নেওয়ার কষ্ট লাঘব করতে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫ বছর আগে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ২২ ফুট উচ্চতার এই সেতুটিতে ওঠার জন্য কোনো রাস্তাই নেই। সেতুর পাশ দিয়ে একটি নিচু রাস্তা থাকলেও বর্ষা মৌসুমে তা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে সেতুটি কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো কাজেই আসছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাঠ থেকে ফসল পরিবহনের সুবিধার্থে স্থানীয় কৃষকরা একটি সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই ২০০১ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, সেতু নির্মাণের পর এর দুই পাশে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি।

রামাকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসেন শেখ বলেন, “গাজনার বিলবেষ্টিত আমাদের গ্রামে বর্ষা মৌসুমে প্রায় ছয় মাস জলাবদ্ধ থাকে। পানি নেমে গেলে বিলের মাঠে শুরু হয় ফসলের আবাদ। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল তা এখন কোনো কাজেই আসছে না।”

তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন, “সেতুটি যখন তৈরি হয়, তখন আমি যুবক ছিলাম। এখন অনেক বয়স হয়েছে। এত বছর ধরে শুধু সেতুটি দেখেই গেলাম, কোনো কাজে লাগল না।” স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মাজেদা খাতুন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “খালি খালি অকারণে বিলের মধ্যে একটা ব্রিজ করে থুইছে। এই ব্রিজে আমাদের কোনো উপকার নেই।”

রামাকান্তপুর গ্রামের জব্বার হোসেন জানান, তাদের গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ সেতুর পাশের নিচু রাস্তাটি ব্যবহার করে চলাচল করেন। কিন্তু বর্ষার সময় পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যায়, যার ফলে নৌকা ছাড়া চলাচলের আর কোনো উপায় থাকে না। অথচ একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেতুটি অনেক উঁচু হওয়ায় দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা ছাড়া এটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই সেতুটি কার্যকর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

এই বিষয়ে সুজানগর উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, সেতুটি অনেক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তার বিস্তারিত জানা নেই। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, শিগগিরই সেতুটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।