সেতু নির্মিত হলেও সেখানে ওঠার কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার দুটি ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার বাসিন্দা। বর্তমানে ব্রিজের দুই পাশে বসানো বাঁশের চাটাই বেয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা।
রাজারহাট সদর ইউনিয়নের নাটুয়ামহল এবং ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চেতনা গ্রামের সীমান্তবর্তী ছিঁড়ারপাড় খালের ওপর এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ‘গ্রামীণ মাটির রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় এই সেতুটির মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সেতুটির নির্মাণ কাজ চললেও দুই পাশে সংযোগ সড়কে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট করা হয়নি। এর ফলে সেতুটি তৈরি হওয়ার পরও সাধারণ মানুষ তা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তাদের বাধ্য হয়ে প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সেতুর দুই পাশে বাঁশের চাটাই বসানো হয়। তবে এই চাটাইয়ের ঢাল এতটাই খাড়া যে ভ্যান, অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেলের মতো যানবাহন নিয়ে ব্রিজে ওঠা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ী এবং অসুস্থ রোগীদেরও দীর্ঘ ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যায় স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলো রানী বলেন, “সাইকেল নিয়ে বাঁশের চাটাই বেয়ে উপরে উঠতে ও নামতে ভয় লাগে। অনেক সময় পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।”
চেতনা গ্রামের নয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আবু হানিফ জানান, ব্রিজের দুই পাশে মাটি না থাকায় কিছুদিন আগেও স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং হাটবাজারে যাওয়া মানুষকে হাঁটু সমান পানি পার হয়ে যেতে হতো। অনেক দাবি-দাওয়ার পর মাটির পরিবর্তে চাটাই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এতে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
নাটুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ জানান, চেতনা, নাটুয়া, পোদ্দারপাড়া, নয়াবাড়ি, শামকালিয়া ও রামপাড়া গ্রামের প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ এই পথটি ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “ঠিকাদার সময়মতো কাজ শেষ করলে এত দিন ধরে মানুষকে এই ভোগান্তি পোহাতে হতো না।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এই সমস্যার দ্রুত সমাধান কামনা করেছেন। রাজারহাট সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “ব্রিজের দুই পাশে মাটি না থাকায় মানুষের অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করা দরকার।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে কাজ শুরু করা হবে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয়রা মাটি দিতে না দেওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদার সেখানে ভেকু নিয়ে গেলেও কাজ করতে দেওয়া হয়নি, যার কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি, এবার সমস্যার সমাধান হবে।”