ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি শহরকে কেন্দ্র করে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ইউক্রেনের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, গতকাল রোববার রাতে এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হয়। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্থানীয় পর্যায়ে এটিই ছিল সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী একটি যুদ্ধবিরতি।
ইউক্রেনের মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস জানিয়েছেন, “২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল।”
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। সেই সময়েই রুশ বাহিনী ওলেশকি শহরটি নিজেদের দখলে নেয়। ভৌগোলিকভাবে শহরটি নিপার নদীর বাম তীরে এবং খেরসন শহরের ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থিত। ২০২২ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনীয় বাহিনী খেরসন শহরসহ নদীর পশ্চিম তীরের এলাকাগুলো পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনলেও ওলেশকি শহরটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণেই থেকে যায়।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে এই শহরের বেসামরিক বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা চরম দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সেখানে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেয়। শহরটিতে আটকা পড়া প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং যারা শহর ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছুক, তাদের নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
গত ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প জানান, “ওলেশকিতে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে সমঝোতা হয়েছে।” এই উদ্যোগের সমন্বয়ক হিসেবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দিমিত্রো লুবিনেৎস এবং রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেশটির মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা দায়িত্ব পালন করেন। এই সমঝোতার আওতায় যুদ্ধবিরতি মেনে চলা, মানবিক সহায়তা প্রদান, মাইন অপসারণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, উভয় পক্ষই নির্ধারিত এলাকায় এই চুক্তি মেনে চলছে। সেই সাথে সহায়তা পৌঁছানোর পথে মাইন সরানোর কাজও শুরু করা হয়েছিল। তবে এখন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ওলেশকিতে মানবিক কার্যক্রম এবং বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সামনে কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।