ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ক্রামাতোরস্কে রাশিয়ার গাইডেড বোমা হামলায় অন্তত ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার পরিচালিত এই ভয়াবহ হামলায় আরও ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইউক্রেন সরকারের মতে, চলতি বছরে রাশিয়ার চালানো অন্যতম বড় হামলা এটি।

দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্রামাতোরস্ক বর্তমানে রুশ বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা ইতিমধ্যে রাশিয়ার দখলে থাকলেও, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রুশ বাহিনী। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে।

ক্রামাতোরস্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাস্তায় চলাচলরত দুটি যাত্রীবাহী বাসে এই বোমা হামলা চালানো হয়। বাস দুটিতে সে সময় প্রচুর যাত্রী ছিলেন। ইউক্রেন পুলিশের প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা গেছে, রাস্তায় বাসের পোড়া কঙ্কাল পড়ে আছে এবং ধ্বংসস্তূপের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কিছু মরদেহ।

ইউক্রেন সরকারের দাবি, বেসামরিক মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন জানান, রুশ বাহিনীর কাছে যাত্রীবাহী বাসগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু। কারণ, একটি মাত্র হামলাতেই সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে হত্যা করা সম্ভব হয়।

বোমা হামলার পর ক্রামাতোরস্ক এবং স্লোভিয়ানস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর ফিলাশকিন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার কোনো অধিকার আমাদের নেই।’

তবে এই নির্দিষ্ট হামলা প্রসঙ্গে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাশিয়া বরাবরই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ অবসানের পূর্বশর্ত হিসেবে পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল মস্কোর হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রাশিয়া, যদিও কিয়েভ এই দাবি মানতে নারাজ।

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঠিক পরদিনই এই ঘটনাটি ঘটল। আগের দিনের হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছিলেন। রাশিয়া জানিয়েছিল, তারা ইউক্রেনের আবাসিক এলাকা, জ্বালানি কেন্দ্র এবং সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবে।

রাশিয়ার এই রণকৌশল নিয়ে কিয়েভভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘পেনটা’র প্রধান ভলোদিমির ফেসেঙ্কো আল–জাজিরাকে বলেন, এটা রাশিয়ার নতুন একটি কৌশল। তারা ইউক্রেনকে বিদ্যুৎবঞ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। এখন তারা পরিবহনব্যবস্থা ধসিয়ে দেওয়ার জন্য অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে।