রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প একটি ‘যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছেন’ বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ওলেশকি শহরে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই শহরটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, খুব দ্রুতই ওলেশকি শহরে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রণাঙ্গনে এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের সঠিক সময় নির্ধারণের বিষয়ে বর্তমানে সামরিক বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে নতুন করে একগুচ্ছ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই ঘোষণাটি এল। জানা গেছে, এই বিশেষ কৌশলের আওতায় ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে এবং পাশাপাশি রাশিয়াকেও বেশ কিছু ছাড় প্রদান করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেলানিয়া ট্রাম্প ওলেশকির বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ওলেশকির পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ওলেশকি একটি সম্মুখযুদ্ধের শহর, যা ধ্বংসের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, ‘ওলেশকির সাধারণ মানুষ সীমিত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন, মাইন পাতা সড়কের মধ্যে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত সামরিক হামলার শিকার হচ্ছেন। এটি একদম স্পষ্ট ছিল যে আমার হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং প্রবীণদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া অসম্ভব হতো।’
ফার্স্ট লেডি আরও বিস্তারিত জানান, তাঁর প্রতিনিধিরা স্থানীয় পর্যায়ে এই ‘যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো নির্ধারণ করতে সরাসরি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করেছেন।’
মেলানিয়া জানান, শহরের সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দুই দেশের বেসামরিক নেতারা যৌথভাবে কাজ করবেন।
যুদ্ধের আগে ওলেশকি শহরের মোট জনসংখ্যা ছিল ২৪ হাজার। শহরটি যুদ্ধক্ষেত্রের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ শুরুর প্রথম দিনেই শহরটি দখল করে নেয়। সেই সময় থেকে শহরটি চরম অস্থিরতা ও গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।