ইউক্রেনের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন করে নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল আমদানির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া একটি চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কির সেই সমালোচনারই পাল্টা জবাব হিসেবে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, লাখ লাখ টন রুশ ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রে আনার এই নতুন চুক্তিটি কার্যত মস্কোকে সহায়তা করবে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের ফলে রাশিয়া তাঁর দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। তিনি এই চুক্তিটিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি ‘উপহার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জেলেনস্কির এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার অনুমোদন অব্যাহত রেখে জেলেনস্কি ‘বিশ্বের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে’ চাইছেন। ট্রাম্পের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি পরামর্শ দেন যে, ইউক্রেনের এখন এমন একজন নতুন নেতা বেছে নেওয়া উচিত, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া। সেই সময় থেকে ইউক্রেনজুড়ে সামরিক আইন জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সামরিক আইন বলবৎ থাকায় নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে এবং ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্ষমতায় বহাল রয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
জ্বালানি পণ্যের অন্যতম প্রধান উৎপাদক দেশ হিসেবে রাশিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। সম্প্রতি ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পরিবহনব্যবস্থায় হামলা জোরদার করেছে, যার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, মস্কোর বিরুদ্ধে আপনারা যা খুশি করতে পারেন, কিন্তু তেল শোধনাগারগুলোয় আক্রমণ করবেন না। কারণ, এতে বিশ্বজুড়ে সমস্যা দেখা দেবে।’
জেলেনস্কির কূটনৈতিক কৌশলের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি (জেলেনস্কি) বেশ কিছু চুক্তি করতে পারতেন। কিন্তু অজানা কারণে সেটা করেন না।’
এর আগে গত শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রাখার বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় জেলেনস্কি পুনরায় সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ডিজেল চুক্তির ফলে মস্কো নতুন তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে এবং সেই অর্থ দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন সামরিক সরঞ্জাম জোগাড় করতে সক্ষম হবে।