গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে এক অদ্ভুত চিত্র সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

গত শনিবার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এই চিত্রটি উঠে এসেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত শূন্য পাসের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে শুধুমাত্র মানবিক বিভাগে একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে কোনো পরীক্ষার্থীই ছিলেন না। আর প্রকাশিত ফলাফলে সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি।

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে এখানে কলেজ শাখা চালু করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির স্কুল বিভাগে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন, যাদের সবাই এমপিওভুক্ত এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা পান। কলেজ শাখায় বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিনটি বিভাগ চালু থাকলেও শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক স্বর্ণা রানী বিশ্বাস বলেন, ‘কলেজটি গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় ছাত্র তেমন পাওয়া যায় না। এ জন্য শিক্ষকরাও কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাদের কোনো উৎসাহ নেই।’

তিনি আরও জানান, কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি এবং এই উদ্দেশ্যে প্রতিবছর নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করছেন।

প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার জানান, কলেজটির অনুমোদন নেওয়ার সময় সেখানে শিক্ষক ছিলেন। তবে তারা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছেন। তার মতে, কলেজ শাখাটি বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো হবে।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, ‘আমি এক সপ্তাহ হলো সভাপতির চিঠি পেয়েছি। এখনও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মিটিং করতে পারিনি। এসব বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম জানান, ‘আমাদের দায়িত্ব স্কুল পর্যায় দেখাশোনা করা। কলেজ বিভাগ আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কলেজ বিভাগ ঢাকা অঞ্চলের একজন পরিচালক দেখাশোনা করেন। তারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, স্কুল বিভাগে ১৪ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কলেজ শাখায় শিক্ষার্থীর এমন তীব্র সংকট এবং একমাত্র পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। তারা মনে করছেন, শিক্ষার্থী সংকটের প্রকৃত কারণ এবং কলেজ শাখার পাঠদান কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।