আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কেবল পলাতক আসামিদের বিচার করা হচ্ছে এবং উপস্থিত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো রায় দেওয়া হচ্ছে না—জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে অভিহিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। রোববার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, আদালত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৪ নভেম্বর তাকে সশরীরে হাজির হয়ে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্রিফিং চলাকালীন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার সাংবাদিকদের এই আদেশের কথা জানান।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের সাজা দেওয়া হচ্ছে এবং যাদের সাজা কার্যকর করা সম্ভব নয়, ট্রাইব্যুনাল তেমন কিছু মামলার বিচার করছেন। এই বক্তব্যটি কি আদালত অবমাননার আওতায় পড়ে?
এর জবাবে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, কোনটি আদালত অবমাননা, সেটি ট্রাইব্যুনাল বিবেচনা করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যেটা বলেছেন যে একজন রাজনৈতিক নেতা, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়। উপস্থিত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো রায় হচ্ছে না। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমরা এই কথাকে সম্পূর্ণভাবে অসত্য মনে করি।’
মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রসিকিউটর ব্যাখ্যা প্রদান করে বলেন, পলাতক আসামিদের বিচারের ক্ষেত্রে সাধারণত রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করেন এবং তাঁরা প্রসিকিউশনের সরবরাহ করা নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে কার্যক্রম চালান। অন্যদিকে, উপস্থিত আসামিরা একাধিক আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন কৌশলে সময়ক্ষেপণ করার চেষ্টা করেন। আসামি নিজে উপস্থিত থেকে আইনজীবীকে নির্দেশনা দেওয়ার ফলে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় এবং মামলা শেষ হতে সময় লাগে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এখানে উপস্থিত আসামিদের বিচার হচ্ছে না; এই ধারণাটি সঠিক নয়।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার ব্রিফিংয়ে আরও উল্লেখ করেন যে, বেশ কয়েকজন উপস্থিত আসামির মামলা বর্তমানে একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, উপস্থিত আসামিদের মামলা শেষ হতে কিছুটা সময় বেশি লাগে, বিপরীতে পলাতক আসামিদের মামলাগুলো দ্রুত শেষ হয়। বর্তমানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মামলার বিচার কার্যক্রম শেষের দিকে রয়েছে।