আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কেন্দ্রীয় সহ-প্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবিরের বাসভবনে পৌরসভার বুলডোজার দিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদের কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে দলের শীর্ষ নেতারা বলেন, “দিনদুপুরে পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে একজন রাজনৈতিক কর্মীর বাড়ি ভেঙে দেওয়া কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না। এটি শুধু ফিরোজ কবিরের ওপর হামলা নয়, বরং স্থানীয় প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক মতের ওপর নগ্ন দমন-পীড়নের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।”

এবি পার্টির দাবি, ফিরোজ কবির দীর্ঘ সময় ধরে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন। বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং কৃষকদের সারের ন্যায্য দাবির মতো বিষয়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। এসব বিষয়ে তার সাহসী বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের কারণে তাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া রংপুরের লংমার্চে অংশ নেওয়ার কারণে স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতা তাকে ফোন করে গালিগালাজ করেন এবং ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তারা জানান, আজ দুপুর ১২টার দিকে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোকজনের নেতৃত্বে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল পৌরসভার বুলডোজার নিয়ে এসে ফিরোজ কবিরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ আরও করা হয়েছে যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত শত শত মানুষ যখন ঘটনার ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করেন, তখন হামলাকারীরা তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ধারণ করা ভিডিওগুলো মুছে ফেলে।

নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কঠোর ভাষায় বলা হয়, পৌরসভার বুলডোজার কোনো রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হাতিয়ার হতে পারে না। তারা মন্তব্য করেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে কোনো নাগরিকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।

পরিশেষে, এবি পার্টি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ফিরোজ কবির ও তার পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন দলের নেতারা।