আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল প্রণয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুম, নির্যাতন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নাগরিকের সম্পত্তি-আবাসনের নিরাপত্তাহীনতার স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে। প্রস্তাবিত আইনগুলোকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে হবে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্ত এমন কোনো বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া উচিত নয়, যাদের সদস্যদের বিরুদ্ধে অতীতে গুমের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত হতে হবে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষায়িত। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সরকারের প্রভাবমুক্ত ও প্রকৃত অর্থে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কমিশনকে নিজস্ব তদন্ত ক্ষমতা, পর্যাপ্ত জনবল, স্বাধীন বাজেট এবং সম্ভাব্য গোপন আটককেন্দ্রসহ দেশের সব হেফাজতস্থলে পূর্বানুমতি ছাড়া পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে।
গুমের মতো গুরুতর অপরাধে শুধু সরাসরি জড়িত ব্যক্তিরা নয়, নির্দেশদাতা, পরিকল্পনাকারী, সহযোগী এবং কমান্ড দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও আইনের আওতায় আসবেন। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল সম্পর্কে তারা বলেন, বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও ব্যবহার ও ভোগের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন—এ উদ্দেশ্য মানবিক। তবে এই আইন মুসলিম আইন বা শরীয়ার সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। মালিকানা ও ভোগাধিকার পৃথক হয়ে গেলে ভবিষ্যতে সম্পত্তি বিক্রি, বন্ধক, ভাড়া, রক্ষণাবেক্ষণ, কর ও উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন বিরোধ দেখা দিতে পারে। তাই আইনটি চূড়ান্ত করার আগে এসব বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রাখা জরুরি।
তারা আরও বলেন, বাবা-মায়ের সম্পত্তি ও আবাসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, কিন্তু এমন আইন করা যাবে না যা একটি সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে পরিবারে নতুন সম্পত্তি বিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদি মামলা সৃষ্টি করে। আইন হতে হবে মানবিক, স্পষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য। রাষ্ট্রের কোনো বাহিনী, কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না। নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্র হবে জনতার; রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে আইনের প্রধান উদ্দেশ্য।