জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সামনে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন তাঁরা।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ উক্ত সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হাসানুজ্জামান তুষার এবং মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা আদালত অবমাননার শামিল বলে মনে করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষ। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

সোমবার এই মামলার শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী আদালতে জানান, তাঁর দুই মক্কেল তাঁদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিতর্কিত পোস্টগুলো ইতিমধ্যে মুছে ফেলেছেন (ডিলিট করেছেন)। আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরীর দাবি, তাঁরা আবেগের বশবর্তী হয়ে এই ভুলটি করেছেন। এছাড়া তিনি জানান, আসামিরা যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা লাভ করেছেন।

আসামিদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা শুনে ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেন, আসামিরা যে ধরনের কাজ করেছেন, যদি তাঁরা যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করে থাকেন, তবে তাঁদের এমন কাজ করার কথা নয়। কারণ, সেখানে প্রথমেই জেন্টেলিটি (ভদ্রতা) শেখানো হয়। ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন, ‘আমাদের পোলাইট (ভদ্র বা নম্র) হওয়া উচিত।’

শুনানির সময় আদালত অবমাননার এই মামলার দুই আসামি আইনজীবী হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী স্বশরীরে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। শুনানির এক পর্যায়ে মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী আদালতের কাছে বলেন, তাঁরা অনুতপ্ত। তাঁরা ক্ষমা চান।

এরপর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী আসামিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও তাঁদের সময় দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানান। সবশেষে ট্রাইব্যুনাল এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।