জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তাদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণার পর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম নিজ দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, "এই মামলার প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। অধিকাংশ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেওয়া হয়েছে।" রায়ে দণ্ডিতদের প্রতি শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, "জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের পক্ষ থেকে শুকরিয়া আদায় করছেন।" তিনি আরও বলেন, "এই দণ্ডিতদের নির্মম ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডের কারণে সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছিল। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। পঙ্গু, আহত ব্যক্তিদের নিয়ে তাদের পরিবার অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় বসবাস করছে।"
রায়ে ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই বর্তমানে পলাতক।
সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, "আসামিরা এই বিচারকার্য জেনেশুনেই পলাতক আছে। কোনো অপরাধী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকে, আইনে যেভাবে বিধান আছে, সেভাবেই বিচারকার্য পরিচালিত হয়েছে। অতএব এখানে কোনো মানবাধিকার সংগঠনের মন্তব্যের অবকাশ নেই।"
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বিষয়ে তিনি জানান, রোম সংবিধিতে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিধান থাকলেও আজকের রায়ে প্রত্যেক আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা বিলিবদ্ধ কোনো সংস্থা দ্বারা সেটা বিক্রয় করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বিলিবণ্টনের ব্যবস্থা করা হবে।"