রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে অনিবার্য কারণে আজকের শুনানির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত শুনানির জন্য আগামী ১ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ এই আদেশ প্রদান করেন।
আজকের শুনানির এক পর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী আদালতকে জানান যে, প্রসিকিউশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র তাঁরা এখনো হাতে পাননি। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তাঁদের আরও সময়ের প্রয়োজন।
আসামিপক্ষের এই আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন।
উল্লেখ্য যে, এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে আসামিদের মধ্যে ১১ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মন্ডল, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
মামলার বাকি ৩০ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক সংসদ সদস্য এস এম জাহিদ, যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং র্যাবের সাবেক প্রধান মো. মোখলেছুর রহমান।
এছাড়া আরও পলাতক রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন, ডিআইজি মহা. আশরাফুজ্জামান, ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন–অর–রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, রমনা অঞ্চলের এসি এস এম শিবলী নোমান ও মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী।