কুমিল্লায় মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো গুরুতর ঘটনায় দলের দুই শীর্ষ নেতার রুকনিয়াত বা সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে দলীয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
যাদের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সদ্য সাবেক আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর রাতে কুমিল্লা নগরীর গাংচর (মোগলটুলী) এলাকায় অবস্থিত ফারুকী হাউসে মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেখানে নতুন আমির নির্বাচন এবং কমিটি গঠন নিয়ে রুকনদের আলোচনা চলছিল। তবে সভা চলাকালীন পদ-পদবি এবং নেতৃত্ব গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিশৃঙ্খলা কার্যালয়ের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই অরাজক পরিস্থিতির এক পর্যায়ে কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়।
এই ঘটনার পরদিন বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে (সাবেক শিবির নেতা) তার দল থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ১৬ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি (সংগঠন ও ইমারাত) ভেঙে দেওয়া হয় এবং কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিমকে মহানগরের সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। একইসঙ্গে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে এটিএম আজহারুল ইসলাম ও মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহানের সমন্বয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুনের রুকনিয়াত বাতিল করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য দলীয় কার্যালয় ও তার আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা মহানগরীর তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা আবদুল হালিম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং একেএম এমদাদুল হক মামুনের রুকনিয়্যাত বাতিল করা হয়েছে। দলের নির্বাহী পরিষদ তাদের রুকনিয়্যাত বাতিল করেছে।”