টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন যেন ছক্কার মহোৎসব। বল নিয়মিত সীমানার বাইরে উড়ে যাচ্ছে, আর ব্যাটসম্যানদের কাছে সাধারণ বাউন্ডারি এখন আর যথেষ্ট নয়। ছক্কা হাঁকানো যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে এক নতুন অভ্যাসে। আর এই প্রবণতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল।

হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ে এক নতুন ইতিহাস লিখল ভারত। এক পঞ্জিকাবর্ষে ৪০০টি ছক্কা মারার মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করল তারা। ২০২৬ সালে নিজেদের ৪০তম ম্যাচে এই অভাবনীয় রেকর্ডটি অর্জন করেছে টিম ইন্ডিয়া। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটিতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা মোট ১১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন, যার ফলে দলটির মোট ছক্কার সংখ্যা ৪০০-এর ঘরে পৌঁছে যায়।

এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিল আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ অস্ট্রিয়া। ২০২৫ সালে ৩৬টি ম্যাচে তারা ৩২৬টি ছক্কা মেরেছিল। তবে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে পূর্বের সেরা রেকর্ডটিও ছিল ভারতেরই। ২০২২ সালে ৪০টি ম্যাচে তারা ২৮৯টি ছক্কা মেরেছিল। গত চার বছরে ক্রিকেটের চিত্র কতটা বদলেছে, তা পরিসংখ্যান দেখলেই স্পষ্ট হয়। ২০২২ সালে ভারতের ম্যাচপ্রতি ছক্কার গড় ছিল ৭.২, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০-এ। অর্থাৎ, বর্তমানে প্রতি ম্যাচে গড়ে ১০টি করে ছক্কা মারছে ভারত।

ভারতের এই ঐতিহাসিক ৪০০তম ছক্কাটি এসেছে নীতীশ ধীরের ব্যাট থেকে। ইনিংসের ১৯তম ওভারে ব্লেয়ার টিকনারের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে বলের ওপরের দিকে ব্যাট লাগে নীতীশের। বলটি উড়ে গিয়ে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে পড়ে। আর এভাবেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয় সেই বিশেষ ছক্কাটি।

ভারতের এই রেকর্ড যাত্রায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের বড় ভূমিকা ছিল। ২০২৬ সালে ভারতের মারা মোট ৪০০টি ছক্কার মধ্যে ১৪২টিই এসেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এক পঞ্জিকাবর্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার বিশ্বরেকর্ড এখন ভারতের দখলে। এছাড়া এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার তালিকায় প্রথম তিনটি স্থানের দুটিই এখন ভারতের দখলে। ২০২৬ সালে ৪০০ এবং ২০২২ সালে ২৮৯টি ছক্কা। এই দুই রেকর্ডের মাঝখানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ২০২৫ সালের ৩২৬টি ছক্কার রেকর্ড।