চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) অবস্থিত প্যাসিফিক জিনসের ইউনিট-১ এর একটি পুরোনো ভবনে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবনটি ভেঙে ফেলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি এবং সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই উৎপাদন বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি, আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিলের (আরএসসি) করা মূল্যায়নে ভবনটিতে কাঠামোগত বিপর্যয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি পাওয়া গেছে, যার ফলে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

আজ রোববার প্যাসিফিক জিনস লিমিটেডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে যে, তারা প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ করে ওই একই জায়গায় একটি নতুন কারখানা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।

পোশাক খাতের অন্যতম রপ্তানিকারক প্যাসিফিক জিনস গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মরত আছেন। গ্রুপটির বার্ষিক রপ্তানি আয় ৪০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে, উৎপাদন বন্ধের এই সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট পুরোনো ভবনটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্যাসিফিক জিনসের অন্যান্য উৎপাদন ইউনিট এবং গ্রুপের বাকি কারখানাগুলোর কার্যক্রম যথারীতি অব্যাহত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্যাসিফিক জিনসের একজন কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে জানান, ১৯৯৪ সালে ওই কারখানা ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি ভেঙে সেখানে প্রস্তাবিত নতুন কারখানা চালু করা হলে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কোম্পানির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “ভবনটিতে আরএসসি বিশেষ কাঠামোগত নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং পরে বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়ন করেছে। এতে সম্ভাব্য কাঠামোগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি চিহ্নিত হয়। তাই শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেখানে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এই বন্ধ হওয়া ভবনে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি অবসানের প্রক্রিয়া গত ৩১ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু করা হয়েছে।

প্যাসিফিক জিনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণসহ যাবতীয় আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। এই পাওনার তালিকায় রয়েছে বেতন, অতিরিক্ত কাজের মজুরি ও অন্যান্য ভাতা, অব্যবহৃত অর্জিত ছুটির টাকা, নোটিশ পে, সার্ভিস বেনিফিট এবং মুনাফাসহ প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, প্রত্যেক শ্রমিকের চাকরি অবসানের তারিখেই তাঁর ব্যাংক হিসাবে চূড়ান্ত পাওনা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি পাওনার বিস্তারিত বিবরণ সংবলিত পে-স্লিপ, অভিজ্ঞতার সনদ এবং প্রশংসাপত্র প্রদান করা হচ্ছে।

নতুন কারখানা নির্মাণের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উৎপাদন বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের চাকরি অবসানের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর আরএসসির নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন নিয়ে সেখানে একটি পরিবেশবান্ধব, অত্যাধুনিক ও বহুতল কারখানা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

প্যাসিফিক জিনস আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নতুন কারখানায় নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান শ্রমিকদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে নতুন কারখানার নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে বা এটি উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।