ইসরায়েলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটাতে বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটকে ‘রাজনৈতিক সাহস’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি আইনপ্রণেতা আহমদ তিবি। ইয়াশার দলের নেতা আইজেনকটকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা বলেছেন তিনি।
গত শুক্রবার মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিবি বলেন, ‘আমি আশা করি, আইজেনকট যথেষ্ট সাহস দেখিয়ে এগিয়ে যাবেন এবং একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করবেন। এর মধ্য দিয়ে অবিলম্বে নেতানিয়াহুর সরকারের অবসান ঘটবে।’
তাআল (আরব মুভমেন্ট ফর রিনিউয়াল) পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তিবি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহযোগিতা না করার পেছনে আর কোনো গণতান্ত্রিক যুক্তি অবশিষ্ট নেই।
তিবির দল ‘জয়েন্ট লিস্ট’–এর একটি অংশ। এই জয়েন্ট লিস্টে ফিলিস্তিনি ইসরায়েলিদের নেতৃত্বাধীন আরও দুটি দল রয়েছে, যেগুলো হলো—হাদাশ ও বালাদ। সাম্প্রতিক নির্বাচনে এই তিন দল সম্মিলিতভাবে ১১টি আসন লাভ করেছে। এছাড়া ফিলিস্তিনপন্থী আরও একটি দল রাআম ৮টি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনি দলগুলোর মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯টিতে, যা দেশটির সংসদীয় ইতিহাসে তাদের জন্য একটি রেকর্ড।
নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফিলিস্তিনপন্থী আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট—কারও নেতৃত্বাধীন জোটই পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না।
তিবি জানান, জয়েন্ট লিস্টের মূল কৌশল হলো নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের পথ তৈরি করতে আগ্রহী পক্ষগুলোকে সমর্থন প্রদান করা।
তবে অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের সরকার গঠিত হলে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে বিরোধী দলগুলোও যুক্ত হতে পারে, যার ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তবে এমন সরকারে বেজালেল স্মোত্রিচ ও ইতামার বেন গভিরের মতো কট্টর ডানপন্থী নেতাদের রাখা হবে না।
জাতীয় ঐক্যের সরকারের বিপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিবি বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐক্যের সরকার চাই না। কারণ, এক পক্ষ তার নিষ্ঠুর নীতি অব্যাহত রাখবে, আর অন্য পক্ষ সেই নীতির পক্ষে প্রচার চালিয়ে তা গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করবে।’ তিনি মনে করেন, জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করলে নেতানিয়াহুর নীতিগুলোই অব্যাহত থাকবে; শুধু অন্য একজন রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে সেই নীতিগুলোকে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলা হবে।
বিকল্প হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা আইজেনকটের নেতৃত্বে নতুন সরকার চাই। সেটি হবে সংখ্যালঘু সরকার। এ ধরনের সরকার গঠনে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’
তিবির মতে, ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণেই নেতানিয়াহু এবার আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি ফিলিস্তিনিদের ভোটকে এই নির্বাচনের নির্ণায়ক হিসেবে অভিহিত করেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৬৪টি আসন পেয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবারের নির্বাচনে তাঁর জোটের আসন সংখ্যা কমে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১টি আসনের প্রয়োজন হয়।