মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াত নেতা তাইজুল ইসলামের বসতঘর ভাঙচুর করেছেন উত্তেজিত এলাকাবাসী। আজ রোববার সকালে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। এসময় উত্তেজিত জনতা ব্যানার হাতে নিয়ে তাইজুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

জানা গেছে, তাইজুল ইসলাম শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ওই এলাকায় কবিরাজি চিকিৎসার মাধ্যমে সেবা প্রদান করে আসছিলেন। তবে গত ২৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাইজুলকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে তিনি নারীদের প্রলুব্ধ করে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যেতেন এবং সেখানে যৌন নিপীড়ন চালাতেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এর পরদিন ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ফেসবুকে ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও সামনে আসে।

ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, “তাইজুল তাঁকে পানির সঙ্গে কিছু খাইয়ে অচেতন করে রাখতেন এবং পরে খারাপ কাজ করতেন। বাধা দিলে স্বামী-সন্তানের ক্ষতি করার ভয় দেখাতেন।” ওই নারী আরও অভিযোগ করেন যে, জিন-ভূতের ভয় দেখিয়েও তাইজুল এসব অসামাজিক কাজ করে আসছিলেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর শিবচর উপজেলা শাখা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে তাইজুল ইসলামকে নিলখী ইউনিয়ন শাখার সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।” আরও বলা হয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, তাইজুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে দাবি করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা নারীটি তাঁর স্ত্রী। তবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, সকালে তাইজুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে এলাকার লোকজন মানববন্ধন করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এরপর কিছু লোক তাঁর বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা জামায়াতের আমির ছরোয়ার হোসাইন মৃধা এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “তাইজুল তাঁদের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা ছিলেন। তাঁকে দলের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বসতঘর স্থানীয় এক মব শ্রেণি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, যা আইনগত অপরাধ। আমরা এ ধরনের সহিংসতা সমর্থন করি না। আইনের কাছে আমরা এর সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছি।”