মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন শাখার এক নেতার বসতঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম তাইজুল ইসলাম।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১ নভেম্বর) সকালে শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে। স্থানীয়দের মতে, তাইজুল ইসলাম নিলখী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এবং ইউনিয়ন আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় কয়েকশ নারী ও পুরুষ হাতে ব্যানার নিয়ে তাইজুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে একত্রিত হন। ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন তার বসতঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।

জানা গেছে, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে ওই এলাকায় কবিরাজি করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে তিনি ওই ইউনিয়নে জামায়াতের প্রচার-প্রচারণার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।

গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এর আগে, ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শিবচর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে তাইজুল ইসলামকে নিলখী ইউনিয়ন শাখার সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “তার বিরুদ্ধে নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।”

তবে এই পুরো বিষয়টি নিয়ে তাইজুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা নারী তার স্ত্রী।

এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, “সকালে অভিযুক্ত তাইজুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে এলাকার লোকজন একটা মানববন্ধন করে বলে জানতে পারি। পরে কিছু লোক ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”