জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. মাহমুদুল হাসান সাকিল (৩০) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আদালত তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, জরিমানার এই অর্থ ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে প্রদান করতে হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই রায়ের ঘোষণা দেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত মাহমুদুল হাসান সাকিল শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সাতানি মুথুরাদি এলাকার বাসিন্দা এবং সাইদুর রহমানের ছেলে। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি সাকিল আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১২ মে সন্ধ্যায় দেওয়ানগঞ্জের তারাটিয়া বাজার এলাকা থেকে ওই স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হন। অভিযোগ ওঠে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাকিল তাকে অপহরণ করেন। এরপর তাকে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে গাজীপুরের টঙ্গীর দেউরা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তাকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর স্কুলছাত্রীর বাবা দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯ মে দিবাগত রাতে টঙ্গীর দেউরা এলাকার ওই ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।
মামলার শুনানির সময় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ প্রদান করেন।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর (পিপি) ফজলুল হক বলেন, “ধর্ষণের মামলায় মাহমুদুল হাসান সাকিলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী পাবেন।”