গাজীপুরে কওমি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. ফারুক মিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি ফারুক আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি মো. হাবিবুর রহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৫ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার আমবাগ মধ্যপাড়া শুকুরের চালায় নিজ বাসার সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর। সে কালিয়াকৈর উপজেলার বান্নারা রাহে জান্নাত মাওয়া কওমি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ফারুক ও তার সহযোগীরা ওই ছাত্রীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। পরে ফারুকের বোনের বাড়িতে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। তিন দিন পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা আছমা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৯ জুন পুলিশ ফারুক ও হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২০ জুন জামিন পাওয়ার পর থেকে ফারুক পলাতক রয়েছেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ফারুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৩০ ধারায় হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের বিষয়ে গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আবু তাহের নয়ন বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। এ রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।