রাজবাড়ীতে এক ধর্ষণ মামলায় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আদালত। মামলার রায়ে ধর্ষণের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এক শিশুকে তার পিতার সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বাবার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হিসেবে তার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই শিশুর বয়স ২১ বছর হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের যাবতীয় ব্যয় সরকার বহন করবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তৌহিদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. ফারুক হোসেন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া এলাকার আহম্মদ খা’র ছেলে। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এই অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আদালত ও মামলার নথিতে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩০ মে রাতে পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া এলাকার এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে খোকসায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান ফারুক হোসেন। সেখানে ওই নারীকে টানা দুই মাস ধরে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ফারুক তাকে ঢাকায় নিয়ে যান এবং সেখানে আরও চার মাস তারা একসঙ্গে বসবাস করেন।

পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সালিশে ফারুক হোসেন ওই নারীকে বিয়ে করতে সম্মত হন। তবে প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই তিনি পালিয়ে যান। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং শুনানির পর আদালত ফারুক হোসেনের অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট জাহিদ উদ্দিন মোল্লা জানান, আদালত রাফিউলকে ফারুক হোসেনের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আদালত রাফিউলকে ফারুক হোসেনের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে উত্তরাধিকারী হিসেবে শিশুটি ফারুকের সম্পত্তির অধিকার পাবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, রাফিউলের বয়স ২১ বছর হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় সরকার বহন করবে বলে আদালতের রায়ে বলা হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।