সাজেক পর্যটন সড়কে টানা ১০ দিন ধরে চলা অবরোধ কর্মসূচি আজ রোববার এক দিনের জন্য শিথিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও সেখানে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে পুরো সড়কটি অচল হয়ে পড়েছে। এক দিনের জন্য সাময়িকভাবে সড়কটি খুলে দেওয়ার পরিবর্তে স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার দাবিতে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাজেকে গণ অধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে তৃতীয় দফায় গত ২২ অক্টোবর থেকে এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছিল। তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা এবং চরম ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে আজ এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠন দুটি। গত শুক্রবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো একটি যৌথ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বাসস্টেশনের লাইনম্যান স্বপন চাকমা মুক্তকণ্ঠকে জানান, ‘পরিবহন খাতের সবাই মিলে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা এবং দীঘিনালা থেকে মারিশ্যা ও সাজেক সড়কে ধর্মঘট ডেকেছেন। এক দিনের জন্য সাজেক খুলে না দিয়ে স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার দাবিতেই মূলত এই পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।’
একই পরিস্থিতির কথা জানান বাঘাইহাট-সাজেক রুটের লাইনম্যান মো. জসিম। তিনি বলেন, ‘সাজেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিবহন খাতে নিয়োজিত মালিক-শ্রমিকেরা এই ধর্মঘট ডেকেছেন।’
গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অবরোধের ফলে গত ১০ দিন ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় নিত্যপণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আজ অবরোধ শিথিলের কথা থাকলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে নিত্যপণ্যের সংকট আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বনবিহারী চাকমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দুটি সংগঠন এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল করলেও এখন আবার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে গাড়ি চলাচল করছে না। স্থানীয় মানুষ খুবই ভোগান্তিতে রয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের অধিকাংশ মানুষ জুমচাষি। তাঁরা জুমে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু গাড়ি না চলায় জুমে উৎপাদিত কলা, পেঁপেসহ নানা কৃষিপণ্য খেতেই পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সাজেকে যান চলাচল করছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।