মিলান ডার্বিতে আবারও নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করল এসি মিলান। নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলানের অপরাজিত থাকার ধারা রুখে দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিল রুবেন আমোরিমের নেতৃত্বাধীন দল। ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়ে প্রথম ১০ মিনিটেই দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় রসোনেরিরা। পরবর্তীতে ইন্টার ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও দিয়েগো মোরেইরার অসাধারণ নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এসি মিলান।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে সান সিরো স্টেডিয়ামে সিরি আ-র দশম রাউন্ডের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয় এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। এসি মিলানের হয়ে গোল উৎসব করেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ, আদ্রিয়েন রাবিও এবং মোরেইরা। অন্যদিকে ইন্টারের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। ম্যাচের সবকটি গোলই হয়েছে প্রথমার্ধে।

এই লড়াইয়ের আগে লিগে অপরাজিত ছিল ক্রিস্তিয়ান কিভুর কোচ করা ইন্টার মিলান। বিপরীতে, আগের ম্যাচে বোলোনিয়ার কাছে ৪-২ গোলে হেরে চাপে ছিল এসি মিলান। তবে ডার্বির মঞ্চে সেই হারের প্রভাব পড়তে দেননি আমোরিমের শিষ্যরা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে রক্ষণভাগে কোণঠাসা করে রাখে তারা।

ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই এসি মিলানকে লিড এনে দেন পুলিসিচ। ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে এসে বক্সে নিখুঁত একটি ক্রস বাড়ান মোরেইরা। ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে সেই বলে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন মার্কিন ফরোয়ার্ড পুলিসিচ।

প্রথম গোলের উত্তেজনা তখনও কাটেনি, তার মধ্যেই দ্বিতীয়বার ইন্টারের জালে বল পাঠায় স্বাগতিকরা। দশম মিনিটে মোরেইরার নেওয়া কর্নার থেকে বল পান রাবিও। ফরাসি মিডফিল্ডারের বাঁ পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বলটি উড়ে গিয়ে দূরের পোস্টে লেগে জালে ঢুকে যায়। ফলে মাত্র ১০ মিনিটেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ইন্টার মিলান।

দ্রুত দুই গোল হজম করার পর ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা শুরু করে কিভুর দল। ১৩তম মিনিটে ইয়ান বিসেকের একটি নিশ্চিত প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন এসি মিলানের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ঁ। তবে ২২তম মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় ইন্টার। হাকান চালহানোগ্লুর কর্নার থেকে বল মাথা দিয়ে বাড়িয়ে দেন মানুয়েল আকাঞ্জি, আর কাছ থেকে হেডে গোল করেন বাস্তোনি।

একটি গোল শোধ দেওয়ার পর আক্রমণের চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় ইন্টার। ২৪তম মিনিটে চালহানোগ্লুর শট রুখে দেন মেনিয়ঁ। ৩৩তম মিনিটে জেড স্পেন্সের কাছ থেকে আসা একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টাও দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন ফরাসি গোলরক্ষক।

এরপর ৪৩তম মিনিটে আবারও পাদপ্রদীপে আসেন মোরেইরা। বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় এসি মিলান। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে রক্ষণপ্রাচীরের ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান ২২ বছর বয়সী এই বেলজিয়ান তারকা। এর ফলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে আক্রমণ চালিয়ে যায় ইন্টার। ৫৫তম মিনিটে চালহানোগ্লুর বাড়ানো বলে দারুণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি কার্লোস আগুস্তো। ৭০তম মিনিটে গোলমুখের জটলা থেকে মার্কুস থুরামের প্রচেষ্টা আবারও ঠেকিয়ে দেন মেনিয়ঁ।

৭৪তম মিনিটে পেনাল্টি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল ইন্টারের জন্য। মিখিতারিয়ানের ক্রস মারিও গিলার হাতে লেগেছে মনে করে স্পটকিকের নির্দেশ দেন রেফারি। তবে ভিএআর (VAR) পর্যালোচনায় দেখা যায়, বলটি আসলে তার বুকে লেগেছিল। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

ম্যাচের শেষ দিকে একাধিক পরিবর্তন এনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন ইন্টার কোচ কিভু। তবে এসি মিলানের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষক মেনিয়ঁর অসাধারণ সেভের সামনে আর কোনো গোল করতে পারেনি সফরকারীরা।

শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এসি মিলান। এই জয়ের মাধ্যমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইন্টারের বিপক্ষে টানা চতুর্থ ডার্বি জিতল রসোনেরিরা। একই সঙ্গে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে অপরাজিত থাকার ধারা আট ম্যাচে নিয়ে গেল তারা।

১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট অর্জন করে সিরি আ-র পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে এসি মিলান। অন্যদিকে সমান ম্যাচে লাৎসিওর সমান ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ইন্টার।