চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমের যাত্রা শুরু করল রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে পরাজিত করে এই জয় অর্জন করেছে তারা। তবে স্কোরলাইনের স্বস্তির তুলনায় ম্যাচটি রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং।
ম্যাচের শুরুটা রিয়ালের পক্ষে সহজ হয়নি। প্রথম ২০ মিনিটে ইন্টার মিলান নিজেদের উপস্থিতি ভালোভাবেই জানান দেয়। তৃতীয় মিনিটে মার্কোস থুরামের হাফ ভলি শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। এরপর হাকান চালহানোলুর ফ্রি কিকও একই পরিণতি লাভ করে। কিন্তু ফুটবলে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নেওয়াই প্রায়শই কার্যকর হয়, যা রিয়াল মাদ্রিদ ঠিক তা-ই করে।
১৪ মিনিটে ইন্টারের ডিফেন্সভাগ থেকে একটি ভুল ঘটে। ইয়ান বিসেকার নিয়ন্ত্রণ হারানো বল ব্রাহিম দিয়াজের কাছে পৌঁছায়। দিয়াজ কোনো মুহূর্তও নষ্ট না করে বল তুলে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে। ঠান্ডা মাথায় সেই বল জালে পাঠিয়ে দেন ফরাসি তারকা। এতে রিয়াল ১-০ এ এগিয়ে যায়। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের হয়ে এমবাপ্পের এই ছিল আরেকটি উল্লেখযোগ্য রাত। ইউরোপিয়ান কাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৭১, যেখানে তাঁর পাশে এখন রাউল গঞ্জালেস।
নয় মিনিট পর আবারও ইন্টারের উপহার। বেনজামিন পাভারের ব্যাকপাস পেয়ে গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজ অযথা সময় নেন। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল কেড়ে নেন ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং সেটি ইন্টারের জালে পাঠান। এতে রিয়াল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এই পর্যন্ত রিয়াল মাত্র একটি শট নিয়েছিল লক্ষ্যে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ইন্টার হাল ছেড়ে দেয়নি। কার্টিস জোন্সের শট ক্রসবারে লাগে। বিরতির ঠিক আগে এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম ও ব্রাহিম দিয়াজ মিলে তৃতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও তা ইন্টারের ডিফেন্স বেঁচে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ধরণ বদলে যায়। ইন্টার একের পর এক আক্রমণ চালায়। জোন্সের শট ঠেকান কোর্তোয়া, মার্কো আর্তুরোর বদলে নামা কার্লোস অগুস্তোর ক্রস থেকে থুরাম গোল করতে পারেননি। লাউতারো মার্তিনেজও সুযোগ পেয়েছিলেন। অন্যদিকে জোসেপ মার্তিনেজ প্রথমার্ধের ভুলগুলো দ্বিতীয়ার্ধে মেটান, একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে রিয়ালের আক্রমণ থামিয়ে দেন।
৫৮ মিনিটে বেলিংহামের মাথা থেকে আসা বলও তিনি ঠেকান। ৬৬ মিনিটে এমবাপ্পের শট আটকে দেন পা দিয়ে। কয়েক মিনিট পর ব্রাহিম দিয়াজের বাঁকানো শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রিয়াল যেন গোল করার সুযোগ পেয়েই যাচ্ছিল, কিন্তু ম্যাচ শেষ করার গোলটি আর আসছিল না।
শেষ পর্যন্ত ৭৭ মিনিটে ইন্টার ফিরে আসে। লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত পাস থেকে কার্লোস অগুস্তো গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনেন। এরপর শেষ ১৩ মিনিটে চাপ বাড়ে রিয়ালের ওপর। ৮৯ মিনিটে মিখিতারিয়ানের শট দিক বদলে যাওয়ার পরও অসাধারণ সেভ করেন কোর্তোয়া।
শেষ বাঁশি বাজে ২-১ ব্যবধানেই, স্বস্তির নিশ্বাস পড়ে রিয়ালের।