দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপীয় মঞ্চে আবারও হ্যাটট্রিকের আনন্দ খুঁজে পেল ইতালির জায়ান্ট ক্লাব এসি মিলান। ২০০২ সালে দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে স্ট্রাইকার ফিলিপ্পো ইনজাগির সেই অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিকের পর আর কোনো ফুটবলার ইউরোপের প্রতিযোগিতায় মিলানের হয়ে তিন গোল করতে পারেননি। অনেক কিংবদন্তি ফুটবলার 'রোজনেরিদের' জার্সিতে খেলেছেন, কিন্তু এই দীর্ঘ খরা কাটাতে পারেননি কেউ। অবশেষে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন মাত্র ১৯ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার আলফাদজো সিসে।

সিসে কেবল মিলানের দীর্ঘ প্রতীক্ষারই শেষ করেননি, বরং ইউরোপের প্রধান ক্লাব প্রতিযোগিতাগুলোতে সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক করা ইতালিয়ান ফুটবলারের নতুন রেকর্ডও নিজের নামে লিখিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইউরোপা লিগের লিগ পর্বে অস্ট্রিয়ার ক্লাব রেড বুল সালজবুর্গকে তাদের নিজেদের মাঠেই ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে এসি মিলান। ম্যাচের প্রথম ৪৯ মিনিটের মধ্যেই তিনটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সিসে। দলের চতুর্থ গোলটি করেন গনসালো রামোস। ম্যাচের শেষ দিকে একজন খেলোয়াড় কম থাকা সত্ত্বেও বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইতালিয়ান ক্লাবটি।

ম্যাচের ১৫ মিনিটেই মিলানকে লিড এনে দেন সিসে। ওমারি হাচিনসনের দেওয়া নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে বল জালে পাঠান তিনি। এরপর ৩২ মিনিটে দাভিদে বার্তেসাগির পাস থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ফরোয়ার্ড। বিরতির পর ৪৯ মিনিটে আদ্রিয়েন রাবিওর ক্রসে আবারও হেডে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সিসে।

তৃতীয় গোলটি করার মুহূর্তে সিসের বয়স ছিল ১৯ বছর ৩৫৮ দিন। এর মাধ্যমে তিনি ইউরোপের প্রধান ক্লাব প্রতিযোগিতাগুলোতে সবচেয়ে কম বয়সে এক ম্যাচে তিন গোল করা ইতালিয়ান ফুটবলারের মর্যাদা পেলেন।

মজার বিষয় হলো, মাত্র দুই দিন আগেই চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে এই রেকর্ড গড়েছিলেন ক্লাব ব্রুজের নিকোলো ত্রেসোলদি। ত্রেসোলদির বয়স তখন ছিল ২২ বছর ৫৪ দিন। তবে সিসের এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের সামনে ত্রেসোলদির সেই রেকর্ড টিকল দুই দিনেরও কম সময়।

এর আগে ১৯৬৯ সালে ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে আয়াক্সের বিপক্ষে মিলানের হয়ে তিন গোল করে সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক করা ইতালিয়ান ছিলেন পিয়েরিনো প্রাতি। তখন তার বয়স ছিল ২২ বছর ১৬৬ দিন। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সাল থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইতালিয়ানদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন জুভেন্টাসের কিংবদন্তি আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, যা গত মঙ্গলবার ত্রেসোলদি ভেঙেছিলেন।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের জয়কেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন সিসে। ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “মিলানের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া? সত্যি বলতে, সেটা আমার কাছে গৌণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জয় পাওয়া। আমরা জিতেছি, তাই খুশি।”

সিসের এই অসাধারণ নৈপুণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মিলান কোচ রুবেন আমোরিম। তার মতে, সিসে তার যোগ্যতার কারণেই খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে হ্যাটট্রিকের পর তার শিষ্যের উন্নতির আরও সুযোগ দেখছেন এই পর্তুগিজ কোচ।

আমোরিম বলেন, “আজ সে সব প্রশংসার যোগ্য। তবে তার আরও উন্নতির জায়গা আছে। তার সম্ভাবনাও অনেক।”

চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন সিসে। সালজবুর্গের বিপক্ষে এই হ্যাটট্রিক তার সাম্প্রতিক ফর্মের ধারাবাহিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

সিসের হ্যাটট্রিকের পর ৭২ মিনিটে দলের চতুর্থ গোলটি করেন রামোস। তবে ৮৩ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফিলিপ্পো তেরাচ্চিয়ানো। শেষ কয়েক মিনিট দশজন নিয়ে লড়াই করলেও সালজবুর্গকে কোনো গোল করতে দেয়নি আমোরিমের দল।

উল্লেখ্য, ইউরোপা লিগের প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে বেনফিকার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল মিলান। সেই ধাক্কা কাটিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রথম জয় তুলে নিল সাতবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।