প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা লাভ করলেও বরগুনা পৌরসভার প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ক বর্তমানে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে পথচারী ও যানবাহন চালকেরা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এসব সড়কের কোনো টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পৌরসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হাসপাতাল সড়কটির অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। উল্লেখ্য, এই সড়কেই জেলা পর্যায়ের পাঁচটি সরকারি দপ্তরের প্রধান কার্যালয় এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল অবস্থিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থায়ী কোনো উন্নয়নের পরিবর্তে কিছু দিন পর পর কেবল ইটের খোয়া ফেলে সাময়িক ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসা রহিম হাওলাদার বলেন, “হাসপাতালের সামনের সড়কে ছোট-বড় এত গর্ত যে গাড়ির ঝাঁকুনিতে রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।”
একই ধরনের ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে পৌরসভার আমতলার পাড়, পিটিআই সড়ক এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডিকেপি সড়কসহ বিভিন্ন সংযোগ সড়কে। ডিকেপি সড়কের বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “ডিকেপি সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করে। কিছুদিন আগে সড়কটি মেরামত করা হলেও আবারও ভেঙে গিয়েছে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”
পিটিআই সড়কের বাসিন্দা রুবেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে বহু মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সড়কগুলো এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পৌরসভার আমতলার পাড় সড়কের বাসিন্দা মো. খবির মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় চলাচল করতে গিয়ে এলাকার মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।”
এ বিষয়ে বরগুনা পৌরসভার প্রশাসক সজল চন্দ্র শীল জানান, বরগুনা পৌরসভার মোট ২৮ কিলোমিটার সড়ক পূর্ণাঙ্গভাবে মেরামতের জন্য প্রায় ২৩ কোটি টাকা প্রয়োজন। তবে অর্থসংকটের কারণে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বাজেট প্রাপ্তির সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বাকি সড়কগুলোও মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।