উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে ভর্তি। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ড থেকে মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর মধ্যে সিংহভাগই মেডিকেল কলেজ এবং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করবে। ফলে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে তীব্র ভর্তি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদনের ভিড় হবে অনেক বেশি। আসন সংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ভর্তিচ্ছুদের জন্য এই লড়াই হবে অত্যন্ত কঠিন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কোর্সে মোট ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ৫ হাজার ১০০টি। এছাড়া সরকারি ডেন্টাল কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা ৫৪৫টি। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়নি।
৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে মোট ৫৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। সব মিলিয়ে মেডিকেল, ডেন্টাল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৬০ হাজার আসনের জন্য এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
তবে পছন্দের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে লড়াই তীব্র হলেও উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক সুযোগের ক্ষেত্রে আসনের কোনো অভাব নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে। এইচএসসি ও সমমানে পাশ করা সব শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পরেও অনেক আসন ফাঁকা থাকবে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অনার্স ও ডিগ্রি (পাস) প্রথম বর্ষের মোট আসন সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি। পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৪ লাখ আসন রয়েছে। এছাড়া সারা দেশের তিন বছর মেয়াদি ফাজিল পাস ও চার বছর মেয়াদি ফাজিল স্নাতকের পাশাপাশি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ রয়েছে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আগামী ১১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে এবং এই প্রক্রিয়া চলবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা হবে ১২ ডিসেম্বর, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষা ২২ ডিসেম্বর এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা ২৬ ডিসেম্বর। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তাদের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ সেশনের জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখও জানানো হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ মার্চ বি ইউনিট (মানবিক), ২০ মার্চ সি ইউনিট (বাণিজ্য) ও ডি ইউনিট (আর্কিটেকচার) এবং ২৭ মার্চ এ ইউনিটের (বিজ্ঞান) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবার জিএসটি ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
অন্যদিকে, কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আয়োজনের দায়িত্ব পালন করছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।