চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি এক বা একাধিক ভাষায় পাঠদান করা হবে এসব প্রতিষ্ঠানে। এই বিশেষ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামোর আওতায় ক্রেডিট এবং নন-ক্রেডিট কোর্স হিসেবে এই প্রোগ্রামগুলোকে বাধ্যতামূলক করা হবে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষার জন্য একটি সমন্বিত ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন মডেল অনুসরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই মডেলের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রেডিট বেজড কোর্সের যেকোনোটি চালু করতে পারবে।

সম্প্রতি সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সাথে এক বিশেষ বৈঠক আয়োজন করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। মূলত সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিরই অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরির প্রত্যাশী হিসেবে নয়, বরং দক্ষ উদ্যোক্তা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারি হিসেবে গড়ে তোলা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এই লক্ষ্যেই গত ২৮ অক্টোবর ইউজিসি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইউজিসি ভবনে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপন, বিদ্যমান রিসোর্স ম্যাপিং, ইন্টারন্যাশনালাইজেশন এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক এই বৈঠকে সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট আটটি ভাষা তৃতীয় ভাষা হিসেবে চালু করা হবে। ভাষাগুলো হলো— চীন, জাপান, কোরিয়ান, জার্মান, ফরাসি, স্প্যানিশ, আরবি ও রুশ। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব সক্ষমতা, ভৌগোলিক অবস্থান, শিক্ষার্থীদের চাহিদা, আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার কথা বিবেচনা করে এক বা একাধিক ভাষা নির্বাচন করতে পারবে।

সূত্রমতে, এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ ভাষা কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং টেকসই করতে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার রয়েছে, সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি সক্ষমতা অনুযায়ী নতুন ইনস্টিটিউট বা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বৈঠক সূত্রে আরও জানানো হয়, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট বা সেন্টার নেই, সেখানে প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী সরকার নতুন করে ইনস্টিটিউট বা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করবে, যাতে এই শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকে।

ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে, তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি কার্যকর ‘অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন’ গড়ে তোলা হবে। এই বিষয়ে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ কৌশলের সাথে সমন্বিত করতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল অফিস’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউজিসি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আসন্ন ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু হচ্ছে, তা শিগগিরই চূড়ান্ত হবে। এসব প্রোগ্রাম চালু করা গেলে তরুণ-তরুণীদের দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের যেমন সুযোগ তৈরি হবে, তেমনি উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”