২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবান জেলায় এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। জেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪২ শতাংশে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩ হাজার ৭৩৫ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, যাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৫৬৯ জন। অন্যদিকে, ২ হাজার ১৬৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মাত্র ৪৪ জন শিক্ষার্থী।

জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাফল্যের শীর্ষে রয়েছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যেখানে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬০ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন এবং তাদের মধ্যে ১৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯৩.৬২ শতাংশ এবং ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯১.৮১ শতাংশ এবং ১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এছাড়া মদিনাতুল উলুম মডেল ইনস্টিটিউট ফাজিল মাদ্রাসায় পাসের হার ৮৪.৫১ শতাংশ এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তবে জেলার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক, যেখানে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমেছে। বান্দরবান কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৫৮.১২ শতাংশ এবং বান্দরবান ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় তা ৫৭.১৪ শতাংশ।

আরও খারাপ পরিস্থিতি দেখা গেছে অন্যান্য কলেজে। হেফাজতুর রহমান কলেজে পাসের হার ৪১.৬৮ শতাংশ, রোয়াংছড়ি কলেজে ৪২.৪৫ শতাংশ, বান্দরবান সরকারি কলেজে ৩৮.৯৪ শতাংশ এবং বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজে ৩৭.৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া লামা সরকারি মাতামুহুরী কলেজে পাসের হার ৩৬.৮২ শতাংশ, হাজী এম এ কালাম সরকারি কলেজে ৩৫.৬৫ শতাংশ এবং লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৩৫.২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পাসের হার মাত্র ২৭.৯১ শতাংশ এবং রুমা সরকারি কলেজে তা ২২.৫৮ শতাংশ।

পুরো জেলার মধ্যে সবচেয়ে করুণ ফলাফল এসেছে বান্দরবান সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৮ জন, যার ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১০.১২ শতাংশে। এছাড়া থানচি কলেজে ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৪.০৭ শতাংশ।

জেলার এই ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বান্দরবান একটি পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় এখানকার অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক শিক্ষার বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নন। পাশাপাশি দারিদ্র্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার ফলাফলে।’