২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের খাদেমুল ইসলামের পরিবারে আনন্দের পরিবর্তে নেমে এসেছে গভীর শোক। মেধাবী ছাত্র রাকিবুল ইসলাম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তবে এই অভাবনীয় সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নিতে তিনি আর কখনো নিজের ঘরে ফিরে আসবেন না।

কৃষক খাদেমুল ইসলামের ছোট ছেলে রাকিব। তিনি ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দেশের সেবা করা এবং বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তার জীবনের প্রধান স্বপ্ন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাকিবকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মামুন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, রাকিবকে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে জীবিত দেখানোর জন্য একটি ভিডিও তৈরি করা হয়। সেই ভিডিওটি পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। প্রিয় সন্তানকে জীবিত ফিরে পাওয়ার তীব্র আশায় পরিবার চার লাখ টাকা পরিশোধ করলেও রাকিবকে আর ফিরে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে পুলিশ নীলফামারীর ডিমলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা ছিল, ছেলে ভালো ফলাফল করলে তারা বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করবেন এবং আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাথে এই খুশির মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেবেন। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত দিনটি এসেছে বুকভরা শোক নিয়ে। যে বাড়িতে আনন্দের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই স্বজন হারানোর আর্তনাদ ও কান্না।

রাকিবের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জীবন তার ছোট ভাইয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরীক্ষার ফলাফলে পরিবারের সদস্যরা গর্বিত হলেও, সেই গর্বের সাথে মিশে আছে প্রিয়জনকে হারানোর এক অসহনীয় বেদনা।

রাকিবের পরিবারের এখন একটাই দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।