বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন শিল্পে বর্তমানে ভাঁজযোগ্য বা ফোল্ডেবল প্রযুক্তির এক তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রতিযোগিতার মাঝেই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন 'আইফোন ডুও' বাজারে আসার পরপরই কিছু গুরুতর ত্রুটি সামনে এসেছে। বিশেষ করে ডিভাইসের স্ক্রিনে ফাটল এবং হিঞ্জ বা কবজায় নানা সমস্যা দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলকে সরাসরি খোঁচা দিয়ে একটি প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ওই ভিডিওর মাধ্যমে স্যামসাং দাবি করেছে যে, তাদের নতুন গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ অ্যাপলের আইফোন ডুওর তুলনায় অনেক বেশি পাতলা এবং হালকা। ভিডিওটিতে একটি সবুজ আপেলকে কেটে টুকরো করে ভাঁজ করার চেষ্টার দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যার মাধ্যমে অ্যাপলের ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বাজারে প্রবেশকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। এরপরই ভিডিওতে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ ডিভাইসটিকে প্রদর্শন করা হয়।
এই প্রচারণামূলক ভিডিওতে দুটি ডিভাইসের হার্ডওয়্যারের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। স্যামসাংয়ের দাবি অনুযায়ী, গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ অ্যাপলের আইফোন ডুওর চেয়ে ১.৬ মিলিমিটার বেশি পাতলা এবং ৫৩ গ্রাম বেশি হালকা। ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে স্যামসাংয়ের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা সেখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওটির সমাপ্তি ঘটে একটি শক্তিশালী স্লোগানের মাধ্যমে, যেখানে বলা হয়েছে— “ফোল্ডেবলে বহু বছর এগিয়ে”।
২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর আইফোন ডুও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকে এই দুই স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার লড়াই আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ড বাজারে আনার পর থেকে এই বিশেষ প্রযুক্তির বাজারে স্যামসাং একচেটিয়া প্রভাব বজায় রেখেছে। বর্তমানে তারা তাদের অষ্টম প্রজন্মের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ডের প্রচারণা চালাচ্ছে।
বিজ্ঞাপনে দেওয়া তথ্যের তুলনা অনুযায়ী, গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর ওজন মাত্র ২০১ গ্রাম, যেখানে আইফোন ডুওর ওজন ২৫৪ গ্রাম। এছাড়া ভাঁজ করা অবস্থায় স্যামসাংয়ের ডিভাইসটির পুরুত্ব ৯.৭ মিলিমিটার, আর অ্যাপলের স্মার্টফোনটির পুরুত্ব ১১.৩ মিলিমিটার।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আইফোন ডুওর ভেতরের ভাঁজ হওয়া ডিসপ্লেতে ফাটল ও ক্ষতির ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবহারকারী ডিভাইসের সেন্ট্রাল হিঞ্জের কাছে সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। এই বিষয়ে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, আইফোন ডুওর একটি ছোট সংখ্যক ইউনিটে সমস্যা রয়েছে। তবে তারা নিশ্চিত করেছে যে, যেসব গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা অ্যাপল কেয়ারের মাধ্যমে তাদের ডিভাইস পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।