প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন চমক নিয়ে অ্যাপল নিয়ে আসছে তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য বা ফোল্ডেবল স্মার্টফোন 'আইফোন ডুও'। এই নতুন ডিভাইসের কথা জানাজানি হতেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ডিভাইসটির নকশা এবং ফিচারের বিশেষত্ব একে অন্যান্য ফোন থেকে আলাদা করেছে।

আইফোন ডুও-এর প্রধান আকর্ষণ এর ডিসপ্লে। ফোনটি খোলা অবস্থায় এতে রয়েছে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির একটি বিশাল অভ্যন্তরীণ পর্দা। অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী, এটিই এখন পর্যন্ত তাদের তৈরি করা সবচেয়ে পাতলা আইফোন। অন্যদিকে, ফোনটি ভাঁজ করা অবস্থায় এর বাইরের পর্দার আকার ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। এই বাইরের পর্দাটি আইফোন ১৮ প্রোর পর্দার প্রায় ৯০ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক।

আইফোন ডুও কেন অনন্য, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এর পর্দার আকৃতির অনুপাত অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। দুই পর্দার আকৃতির অনুপাত একই রাখা হয়েছে, যার ফলে ফোনটি খোলা হোক বা বন্ধ, পর্দায় প্রদর্শিত কনটেন্টের আকারের সামঞ্জস্য বজায় থাকে। এছাড়া পর্দায় বিশেষ 'ন্যানো টেক্সচার ফিনিশ' ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ফলে আলোর প্রতিফলন যেমন কম হবে, তেমনি ভাঁজের দাগগুলোও তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান হবে। ভাঁজ করা অবস্থায় ফোনটি প্রায় একটি পাসপোর্টের আকারের। এর গোলাকার কোণ ও একটানা ফ্রেম ফোনটিকে একটি আধুনিক রূপ দিয়েছে। অ্যাপলের মতে, বাস্তবে ফোনটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।

ভাঁজযোগ্য নকশার কারণে এই ফোনের ক্যামেরাতেও যুক্ত হয়েছে বিশেষ কিছু সুবিধা। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘স্মার্ট টেক’ নামের একটি ফিচার। এই ফোনে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীকে ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় শনাক্ত করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি তুলতে সক্ষম হবে।

মাল্টিটাস্কিংয়ের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে আইফোন ডুও-তে ‘স্প্লিট ভিউ’ নামে নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এই ফিচারের মাধ্যমে আইফোনে প্রথমবারের মতো একই সময়ে পাশাপাশি দুটি অ্যাপ চালানো সম্ভব হবে, যা ব্যবহারকারীদের কাজের গতি বাড়িয়ে দেবে।

রঙের ক্ষেত্রে আইফোন ডুও পাওয়া যাবে ‘স্টার হোয়াইট’ ও ‘নাইট স্কাই’ এই দুটি আকর্ষণীয় রঙে। ফোনটির দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে এই ফোনের প্রি-অর্ডার নেওয়া হবে এবং ২৩ অক্টোবর থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে পাওয়া যাবে।