ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এক নতুন কৌশল ভাবছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের দলগুলো। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদে সরাসরি নির্বাচনের বিধান চালুর কথা বিবেচনা করছে এই জোট। হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়াই একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হতে পারে।

বিরোধী জোটের এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ভোটাররা পার্লামেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভোট দেবেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা তাঁর বিরোধী জোট—কোনো পক্ষই পার্লামেন্ট নেসেটে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এর ফলে সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি আইনি সুযোগ তৈরি করা, যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদে সরাসরি নির্বাচনে জয়ী কোনো প্রার্থী নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়েও একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

এর আগে ২০২১ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত ইসরায়েলি নির্বাচনেও কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। সে সময় জোট সরকার গঠনের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর খোদ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই এই ধরনের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন।

তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। ইসরায়েলের আধা সাংবিধানিক মৌলিক আইন ‘দ্য গভর্নমেন্ট’ অনুযায়ী, নতুন কোনো সরকারকে শপথ নেওয়ার আগে ১২০ আসনের নেসেটে আস্থা ভোটে জয়ী হতে হয়। তাই প্রধানমন্ত্রী পদে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে হলে বিদ্যমান এই আইনটি সংশোধন করা বাধ্যতামূলক। আর এই আইনি সংশোধনের জন্য নেসেটের অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।