গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়ে অভিযান চালিয়ে নাজমুল ইসলাম বাপ্পি (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় ওই বাড়ি থেকে ইয়াবা তৈরির প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং রাসায়নিক উপাদান উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে টঙ্গীর পাগার (আলেকটেক) এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত যুবক নাজমুল ইসলাম বাপ্পি ওই এলাকার তাইজুল ইসলামের ছেলে বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি জানান, কয়েক বছর আগে তিনি প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর তিনি এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান, তবে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রেমের এই ব্যর্থতার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং মাদকাসক্ত হয়ে যান। এরপরই তিনি ইয়াবা তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করেন। ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তিনি নিজেই ইয়াবা তৈরির কারখানার নকশা ও পদ্ধতি আয়ত্ত করেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বেশ কয়েক দিন ধরে নাজমুলের বাড়ির ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছিল। শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, বাপ্পির বাড়ির চতুর্থ তলায় ইয়াবা তৈরির কারখানা এবং বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ মজুত ছিল। অভিযান চলাকালীন সেখান থেকে ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান জব্দ করা হয়।

ওসি আরও জানান, “ইয়াবা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান বাপ্পি মজুত রেখেছিলেন। সেখানে একটি ল্যাব ও একটি গোপন কক্ষ রয়েছে। কক্ষটিতে যাওয়ার কোনো পথ নেই; কারখানাটি বাড়ির একেবারে ভেতরে স্থাপন করা হয়েছিল।” প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি ইয়াবা তৈরির জন্য এসব রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ ও জড়ো করার কথা স্বীকার করেছেন বলে ওসি জানান।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি-টঙ্গী জোন) মো. এরশাদুল রহমান জানান, যথাযথ অভিযান চালিয়ে বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, ইয়াবা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ তিনি চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা এলাকা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।