চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সারা দেশে মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন উক্ত ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
ফলাফলের বিষয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী রোববার (১ নভেম্বর) থেকে অনলাইনে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং চলবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করতে হবে।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আবেদন প্রক্রিয়া:
ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে যেতে হবে। আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ভিজিট করতে হবে। সেখানে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে।
এরপর আবেদনকারীকে একটি সচল মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হলে ওই নম্বরেই এসএমএসের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল প্রদর্শিত হবে। সেখান থেকে যেসব বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করতে ইচ্ছুক, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ অপশনে যেতে হবে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি পত্রের জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা। যদি কোনো বিষয়ে দুটি পত্র থাকে, তবে উভয় পত্রের জন্যই আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে। বিষয় নির্বাচন করার পর পরবর্তী স্ক্রিনে মোট প্রদেয় ফির পরিমাণ দেখা যাবে।
আবেদনের ফি পরিশোধের জন্য বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় এবং সোনালী সেবা ব্যবহার করা যাবে। পেমেন্ট সম্পন্ন করার বিস্তারিত নির্দেশনার জন্য আবেদন পোর্টালের ‘হেল্প’ অপশনটি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফি পরিশোধের পর পুনরায় আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এই ধাপটি সম্পন্ন হলেই আবেদন প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হবে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফি পরিশোধ করে আবেদন জমা দেওয়ার পরও একজন শিক্ষার্থী নতুন কোনো বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে একই পদ্ধতিতে বিষয় নির্বাচন করে ফি পরিশোধ করতে হবে, তবে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
ফি পরিশোধের আগে আবেদনের বিষয় সংশোধন বা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। এজন্য ‘মুছে ফেলুন’ অপশনে গিয়ে যেসব বিষয় নির্বাচন করা হয়েছে কিন্তু ফি দেওয়া হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করে নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে। তবে একবার কোনো বিষয়ের আবেদন ফি জমা দেওয়া হলে সেই আবেদন আর বাতিল করা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই পরিশোধিত ফি ফেরত দেওয়া হবে না।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। তাই সরাসরি বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছাত্র ছিলেন ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ছিলেন ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ এবার ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। উল্লেখ্য, এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।